
মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল—এর বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো: আশিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
মামলা সূত্রে জানা যায়. সাতক্ষীরা জেলাধিন শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জাল সনদে নিয়োগকৃত কম্পিউটার শিক্ষক আরিফা এদিব চৌধুরীর কম্পিউটার সনদ জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নট্রামস) বগুড়া—তে যাচাইয়ের জন্য ২৯/১১/২০২১ তারিখে পাঠান, জেলা শিক্ষা অফিসার, সাতক্ষীরা। বিগত ০৫/১২/২০২১ তারিখে ২১.০০০০.০০৭.৩৬.০০২.২১.১৩৪ নং স্মারকে প্রেরিত পত্রে নট্রামস —এর উপ—পরিচালক জানান, “রেজিষ্টার যাচাইয়ে দেখা যায় যে, সনদপত্রটি নেকটার (সাবেক নট্রামস) কতৃর্ক ইস্যুকৃত নয়, সনদপত্রটি জাল/ভুয়া।” এরপর বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বিগত ২০/০৪/২০২২ তারিখে তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করেন। প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং এমপিও হতে কম্পিউটার শিক্ষক আরিফা এদিব চৌধুরীর নাম কর্তনের জন্য মহাপরিচালক মাউশি বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের ক্রমিক নং ৬৯৮৭, তারিখ—১৩/১২/২৩। কিন্তু, পরবতীর্তে প্রধান শিক্ষক অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে বিগত ২০/৮/২০২৫ তারিখে পুনঃনিয়োগ দান করেছেন। সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের সীমাহীন দূনীর্তির বিরুদ্ধে মাহফুজুর রহমান (সাংবাদিক) বিগত ০৯/১১/২০২৫ তারিখে ৬৬২৭ নং ক্রমিকে মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা ভবন, ঢাকা—তে অভিযোগ করেন। অভিযোগের উল্লেখযোগ্য, বিষয়গুলি যথাক্রমে; ষষ্ঠ শ্রেণি পাস সুফিয়ান গাজীকে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে মর্মে ভূয়া/জাল সনদ প্রদানের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাকেই আবার ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী পদে নিয়োগ দান করেছেন। বিদ্যালয়ের বিশাল আকারের পুরাতন বিল্ডিংটি উর্দ্ধতন কতৃর্পক্ষের বিনানুমতিতে, বিনা টেন্ডারে বিক্রয় করে টাকা আত্মসাৎ । প্রাপ্যতা না থাকা সত্বের্ও চাহিদা পত্র দিয়ে এনটিআরসিএ মাধ্যমে শাখা শিক্ষক নিয়োগ করে সরকারি অর্থের অপচয়সহ বিবিধ অভিযোগ।
কিন্তু, মাউশি—র মহাপরিচালক কর্তৃক কোন পদক্ষেপ নিতে না দেখে মাহফুজুর রহমান মহামান্য হাইকোর্টে ২০৬১৪/২৫ নং একটি রীট পিটিশান দাখিল করেন। আদালত ১৭/১২/২০২৫ তারিখের আদেশে মহাপরিচালক মাউশি এবং জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা—কে বাদির দাখিলকৃত ০৯/১১/২০২৫ তারিখের আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন। বাদী আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য আদালতের আদেশের কপি বিগত ০১/০১/২০২৬ তারিখে ১নং ক্রমিকে মহাপরিচালক এবং ০৫/০১/২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা—তে আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক ১৫/০১/২০২৬ তারিখে ০৫.৪৪.৮৭০০.০০০.০১৭.২১.০০০২.২৬—২২৯(যুক্ত) নং স্মারকে মহাপরিচালক—কে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন। এ ব্যপারে বাদি মাহফুজুর রহমান মাউশি—র আইন কর্মকর্তা আল আমিন সরদার, শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন—এর সহিত বারবার যোগাযোগ করে ব্যর্থ হন। অবশেষে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করায় কেন আদালত অবমাননা (কনটেম্পট) মামলা দায়ের করা হবে না তার জবাব চেয়ে বাদি ০৬/০৫/২০২৬ তারিখে ১০ দিনের সময় দিয়ে উকিল নোটিশ পাঠান। কিন্তু, বাদির সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ২১৯/২৬ নং কনটেম্পট মামলা দায়ের করেন। মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো: আসিফ হাসান—এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২৯/০৬/২০২৬ তারিখে মাউশি—র মহাপরিচালক (ডিজি)—এর বিরুদ্ধে রুল জারী করেন। রুল—এ আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

