
* বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সুপারিশ, বঞ্চিত সামেক হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা * জনবল সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ একাধিক ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার * সামেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং এ ৫৪ জন জনবল সরবরাহে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও আমার কোন হস্তক্ষেপ বা সুপারিশ ছিল না-আবু জাহিদ ডবলু * সামেক হাসপাতালের জনবল নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে বক্ত নেওয়ার জন্য জেলা জামায়াতের আমিরের কাছে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। হাবিবুর রহমান: চুয়ান্ন জনের জনবল সরবরাহকে ঘিরে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগের তীর কর্মকর্তাদের দিকে ছোড়া হলেও ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে রাঘব-বোয়ালরা। সরকারিদল ও বিরোধীদলের শীর্ষনেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী সাংবাদিকরাও জনবল সরবরাহে সুপারিশ করেছেন। সুপারিশ করতে পিছিয়ে নেই একাধিক সরকারি বিভাগও। অনুসন্ধানে জানা যায়, পহেলা ফেব্রুয়ারি আউটসোসিং এর মাধ্যমে সামেক হাসপাতালে ৫৪জন জনবল সরবরাহের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। গণকন্ঠ, বিজনেজটুডে পত্রিকায় এ সংক্রান্তে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পিমা এ্যাসোসিয়েটস্ লিঃ, টিএসফোর ইন্টারন্যাশনাল লিঃ, আরব সার্ভিস লিঃ, মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিস লিঃ ইজিপির মাধ্যমে টেন্ডার ড্রপ করে। দাখিলকৃত দরপত্র যাচাই বাছাইয়ের জন্য সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কুদরত-ই-খুদা কে প্রধান করে ০৫ সদস্যে কমিটি গঠন করা হয়। দরপত্র যাচাই-বাছাই কমিটি তাদের মতামত প্রদানের পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয় থেকে ৫৪ জন জনবল সরবরাহের জন্য টিএসফোর ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেন। এর পর ২২ জুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৫৪ জনের একটি জনবলের তালিকা সামেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর প্রেরণ করেন। শুরু হয়ে যায় হই-চই। জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এস.এম. মহাসিন আলম ফেসবুক পোস্টে সামেক হাসপাতালে জনবল সরবরাহে অনিয়ম দূর্ণীতির অভিযোগ উত্থাপন করেন। তাদের অভিযোগের তীর ছিল প্রধান সহকারী মোস্তাজুল, ওয়ার্ড মাস্টার ফারুক হোসেন ও পরিচালকের ড্রাইভার বশিরের দিকে। কিছু অনলাইন এক্টিভিস্টও সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর বানান। আউটসোর্র্সিং এর ৫৪ জন জনবল নিয়োগে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনের বিষয়ে সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কুদরত-ই-খুদা সাতনদীকে জানান আমি নিজে দুর্নীতিমুক্ত এবং ব্যক্তিগত জীবনে নির্লোভ মানুষ। জনবল সরবরাহের তালিকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টিএসফোর ইন্টারন্যাশনাল লিঃ এর সত্ত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ সরবরাহ করেছেন। এক্ষেত্রে আমার অফিসের কেউ যদি অনিয়ম দুর্নীতি করে থাকে এবং অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি যোগ করে বলেন, আগামীতে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্যই স্বেচ্ছাসেবকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগের শর্তারোপ করা হবে। এতে করে স্বেচ্ছাসেবকরা উপকৃত হবে। ওয়ার্ড মাস্টার ফারুক হোসেন জানান আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত নই। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোস্তাজুল সাতনদীকে জানান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহ করেছে। সামেক হাসপাতালের পরিচালক পরবর্তী কার্যক্রম হিসাবে তাদেরকে যোগদান করিয়েছেন। ইতিমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোথাও আমার কোন ভূমিকা ছিল না। বিধি মতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহ করবেন। জনবল সরবরাহে অর্থ-লেনদেন হলে কিম্বা অনিয়ম-দূর্ণীতি হলে তার দায়ভার বহন করার কথা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টিএস ফোর লিঃ এর স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুর রশিদের। কিন্তু অভিযোগকারীদের অভিযোগের তীর ভিন্ন দিকে। এই টেন্ডার প্রক্রিয়া ইজিপির মাধ্যমে হওয়ায় টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়তোবা স্বচ্ছ। এই প্রক্রিয়া নিয়ে দূর্ণীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ব্যক্তিদের কোন মতামত নেই। মন্ত্রণালয় থেকে জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মনোনীত হওয়ার পর শুরু হয় তদ্বির। সরকারি দল বিএনপির জেলা শীর্ষ পর্যায়ের অন্ততঃ ১০ জন নেতা এবং জেলা জামায়াতের অন্তত ৫ জন নেতা তাদের কিছু সংখ্যক চাকুরীপ্রার্থীকে বর্নিত জনবল সরবরাহের তালিকায় নাম দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। তদ্বিরের এই তালিকা বেশ দীর্ঘ। প্রত্যেকে সর্বনিম্ন ৫ জন থেকে শুরু করে ১০ জনের মত তালিকা দেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টি.এস. ফোর ইন্টারন্যাশনাল লিঃ এর সত্ত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ রাজনীতিকদের সরবরাহকৃত তালিকা থেকে কম-বেশী সংখ্যক আবেদনকারীকে নিয়োগ দেন এবং ইতোমধ্যে তারা যোগদানও করেছে। জনবল নিয়োগে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডবলু সাতনদীকে জানান, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ এবং তার কোন হস্তক্ষেপ ছিল না সামেক হাসপাতালে আউটসোর্সিংএর জনবল সরবরাহের ক্ষেত্রে। বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সুপারিশের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজী হননি। সামেক হাসপাতালের জনবল নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে বক্ত নেওয়ার জন্য জেলা জামায়াতের আমিরের কাছে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। শুধু রাজনৈতিক দল নয় প্রভাবশালী ৫জন সাংবাদিক নেতাও সুপারিশ করেছেন তাদের মনোনীত প্রার্থীকে সরবরাহকৃত জনবলের তালিকায় নাম লেখাতে। একাধিক সরকারি বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদেরও সুপারিশ আছে এই জনবল সরবরাহে তাদের প্রার্থীকে মনোনীত করার জন্য। এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ছিল শুভংকরের ফাঁকি। সামেক হাসপাতালে ১৮০ জন হত দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কর্মরত আছে। দীর্ঘ ১০ বছর থেকে শুরু করে ২ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে তারা কর্মরত। তাদের দাবী ছিল আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদেরকে যেন নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিতে হবে মর্মে আউটসোর্সিং এর টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত থাকার কথা। কিন্তু একটি চক্র এই শর্তারোপে বাধা প্রদান করে সামেক হাসপাতালের পরিচালককে। ফলে জনবল নিয়োগে রাজনীতিক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সরকারি বিভাগ সহ প্রভাবশালী মহল তদ্বীর করার সুযোগ পায় ফলে বঞ্চিত হয় পূর্বে থেকে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা। ৫৪ জন জনবলের মধ্যে মাত্র ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের মধ্য থেকে নেওয়া হয়েছে। সামেক হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক কর্মী সাগর কয়েকজন স্যোশাল এক্টিভিস্টদের কাছে একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। ওই বক্তব্যে ওয়ার্ড মাস্টার ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনায়ন করে। তবে এই প্রতিবেদকের কাছে সাগর জানায়, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহবায়ক এস এম মহসিন আলম তাকে কম্পিউটারইজড একটি বক্তব্য প্রদানে বাধ্য করেছিলেন। অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করা রেখার এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায় যে, তিনি টাকা নিয়ে ফারুক স্যারের কাছে গিয়েছিলেন কিন্তু স্যার টাকা নেন নি। তার বিনিময়ে ফারুক স্যার তুলি নামে আর একটা মেয়ের কাছে চাকরী বিক্রি করেছেন। তুলির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিডিও বার্তায় জানান ফারুক স্যারের সাথে চাকরী কেনাবেচা নিয়ে আমার কোন কথা হয়নি এবং আমি কোন টাকা ওয়ার্ড মাস্টার ফারুক স্যার কে দেয়নি।

