

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন: সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ফুসলিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আইনের সহিত সংঘাত জড়িত অভিযুক্ত কিশোরকে (১৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি।
গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফ। এ সময় তিনি ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। গত রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ (১৬) তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে এবং এক আত্মীয় ঘটনাটি দেখে ফেললে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরে ৪টি সেলাই দিয়েছেন।
এ ঘটনায় গত সোমবার দুপুরে ওই শিশুর মা বাদী হয়ে কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহকে একমাত্র আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর মা এস্নোয়ারা খাতুন বলেন,”অভিযুক্ত আহসান উল্লাহ (১৬) কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মোঃ হাবিবুল্লাহর ছেলে। তার পিতা এই গ্রামের জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন এবং তার ছেলে আহসান উল্লাহ নিজে ছাত্রশিবির করে। ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত থেকে সে আমার মেয়ের সাথে এই ধরনের জঘন্য কাজ করেছে। আমি আমার মেয়ের সুস্থতা কামনা করছি এবং এই নরপশুর ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে গিয়ে আলহাজ্ব আব্দুর রউফ বলেন,”এত ছোট একটি শিশু পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক। আমরা শিশুটির খোঁজখবর নিয়েছি এবং চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। সে শারীরিকভাবে এখন আশঙ্কামুক্ত হলেও কিছুটা মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছি এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিংড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন,”একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন বর্বরোচিত নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ সময় হাসপাতালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাদীউজ্জামান বাদশাহ, আলিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নুরুজ্জামান পল্টুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান,”এ ঘটনায় থানায় মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম রাতভর অভিযান পরিচালনা করে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, মামলা রুজুর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তদন্তকারী কর্মকর্তা সুশান্ত ঘোষের নেতৃত্বে আমরা আইনের সহিত সংঘাত জড়িত অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তাকে আজ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় এবং যেকোনো অপরাধ দমনে সাতক্ষীরা থানা পুলিশ সবসময় আপসহীন।”

