
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ১৪ মাস কারাবন্ধি লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ সোমবার(১৩ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিলাস মণ্ডল একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) অনাথ মিত্রের আবেদনের পর শুনানি পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী এড. আল মাহামুদ পলাশ। লায়লা পারভীন সেঁজুতি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক পাশাপাশি তিনি সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রদুতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। তিনি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসাবে মাত্র পাঁচ মাস দ্বায়িক্ত পালন করেছেন ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ,২০২৫ সালের ২০ মে গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাঁধানগর সড়কের নিজ বাসা থেকে সেঁজুতিকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাকে পর্যায়ক্রমে কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং হত্যা-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে।
সেঁজুতির আইনজীবী এড. আল মাহামুদ পলাশ বলেন, সর্বশেষ মামলায় ৩ জুন সেঁজুতিকে জামিন দেয় হাই কোর্ট। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে তার জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও ‘নো অর্ডার’ হয়। এরপরও একের পর এক মামলায় তাকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়।
তিনি আরো বলেন, ২৫ জুন জিআর ৩৯৯/২৪ এবং ৯ জুলাই জিআর ৪০২/২৪ মামলায়ও সেঁজুতিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় আদালত। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৮ অগাস্ট সাতক্ষীরা আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলার আবেদন করেন মামলার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের ইমদাদুল হক। পরে আদালতের নির্দেশে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় সেঁজুতিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
মামলার বাদী কাশেমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী সানার ছেলে মো. ইমদাদুল হক অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে তার ভাই শহিদুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। শহিদুল জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরের দিন সকালে তাকে যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার দাবি, সেই সময় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল । বর্তমান পরিস্থিতিতে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতক্ষীরা -১ নং আমলী আদলাতে মামলাটি দায়ের করেন । মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির সহ ৩২ জন সহ অজ্ঞান নামা কয়েকজনের উল্লেখ করা হয়। পরে আদলতের নির্দেশে ওই বছরের শেষের দিকে সাতক্ষীরা সদর থানার এজাহার হিসাবে গন্য হয়।
সোমবার আদালতের আওয়ামীলী নেত্রী সেঁজুতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হলে মামলার অভিযোগের বিষয়ে সেঁজুতির পক্ষে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে সেঁজুতির স্বামী সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্ত্রী লাইলা পারভিন সেঁজুতি শহরের অদুরে কাপাশডাংগা এলাকার বঙ্গবন্ধু পোশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন । পাশাপশি দৈনিক পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে দ্বায়িক্ত পালন করেছেন । গত এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ৫ মাস দ্বায়িক্ত পালন করেছিল । গেল ৫ আগষ্ট সরকারের পতনের পর থেকে তার পরিবারের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে ।এরপর ২০২৫ সালের ২০ মে গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ ১৪ মাস কারাবাস কালীন সময়ের মধ্যে তাকে একের পর এক ৬ টি মামলায় তাকে অন্যভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে । যে মামলার তিনি কোন এজাহার ভুক্ত আসামী নন। এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যহাতি সহ জামিনে মুক্তি দাবী করেছেন তিনি ।

