
এস এম আলমগীর হোসেন,আশাশুনি:সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নাকনা গ্রামে বিএনপির দলীয় অফিস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ ও ‘মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানির অপচেষ্টা’ দাবি করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিএনপির একাংশ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাকনা গ্রামের বাসিন্দা সবুর গাজীর পুত্র অলিউল্লাহ গাজী পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের বিপুল শেখ ও আলভী শেখের হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে তাতে তার বুকের ও বাহু বরাবর হাড় এবং হাত ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, অলিউল্লাহ গাজীর ওপর হামলার ঘটনাকে আড়াল করতে এবং প্রকৃত ঘটনার দিক থেকে জনমতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি সাজানো ভাঙচুরের ঘটনা তৈরি করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, হামলার মামলাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিএনপির অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, বিএনপির অফিসে বড় ধরনের ভাঙচুরের কোনো আলামত দেখা যায়নি। অফিসে থাকা বিএনপি নেতা শাহ আলমের ছবি অক্ষত রয়েছে। এছাড়া অফিসের অধিকাংশ আসবাবপত্রও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। শুধু কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং একটি চেয়ারের একটি পা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি সত্যিকার অর্থে পরিকল্পিতভাবে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হতো, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল। অথচ ঘটনাস্থলে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, তাতে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ টাকার বেশি নয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক। প্রকৃত অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু কোনো সাজানো ঘটনার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার আলমগীরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম না। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে যে বা যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” বিরোধীপক্ষের বিএনপির সাবেক নেতা শাহ আলম বলেন আমি ঘটনা স্থলে ছিলাম না আমি অফিস ভাঙচুর করতে কাউকে দেখিনি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে মিথ্যা অভিযোগ ও সাজানো ঘটনার মাধ্যমে কাউকে ফাঁসানোর সংস্কৃতি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে। একই সঙ্গে অলিউল্লাহ গাজীর ওপর হামলার ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

