
# আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সাতক্ষীরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় হাফিজ নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান মামলা রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
মামলার প্রধান আসামি হাফিজ সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দলীয় পদে থাকার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য সাতক্ষীরা পৌরসভায় যান সাংবাদিক হাবিবুর রহমান। পৌরসভার প্রবেশপথে হাফিজসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। এ সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দাঁতভাঙা কলেজের শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিনকে নিয়ে কেন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়।
পরে হাবিবুর রহমান পৌরসভার লাইসেন্স শাখার ১১৪ নম্বর কক্ষে গেলে হাফিজসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। হাফিজ তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে চড়, কিল ও ঘুষি মারেন এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমান। এতে তার মুখ, ঠোঁট, ঘাড় ও বুকে জখম হয়।
পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, সাতক্ষীরার দাঁতভাঙা কলেজের অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং কলেজ শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে দৈনিক সাতনদী পত্রিকায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের জেরেই তাকে আগে থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং পরে হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার পর মামলা করলে কিংবা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আবার সংবাদ প্রকাশ করলে হাবিবুর রহমানকে হত্যা, অপহরণ করে গুম ও গুরুতর জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে সম্পাদক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

