
আমিনুর রহমান:সাতক্ষীরা জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে চরম দলীয়করণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র-জনতার বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে বৈষম্য দূরীকরণ ও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিগত সরকারের আমলে গঠিত সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনাও জারি করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়—কোনো রাজনৈতিক নেতা কমিটিতে থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির জন্য ন্যূনতম স্নাতক (ডিগ্রি) এবং ডিগ্রি কলেজের সভাপতির জন্য স্নাতকোত্তর (এমএ) পাসের শর্ত নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।তবে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা না করেই সাতক্ষীরার অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় একচেটিয়াভাবে ক্ষমতাসীন ধারার নেতাদের বসানো হচ্ছে।সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসের সূত্র অনুযায়ী, জেলায় মোট ৩১৪টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে কেবল সদর উপজেলাতেই ৬২টি।সরেজমিনে সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে বসানো হয়েছে বিএনপি নেতাদের। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এভাবে দলীয়করণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।ম্যানেজিং কমিটি গঠনের এই বিতর্কিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জেলা প্রশাসক মিজ কাউছার আজিজ উদাসীনতা প্রকাশ করে বলেন, “তাতে সমস্যা কী।”
অন্যদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফারুকে আজম বিষয়টি নিয়ে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা জানান। তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসক তিনজন প্রার্থীর নাম পাঠান, সেখান থেকে আমি একজনকে বাছাই করে কমিটি দিই। এখানে বোর্ডের আলাদা কিছু করার থাকে না।” প্রশাসনের দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তার এমন পরস্পরবিরোধী ও দায়সারা বক্তব্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
জেলার শিক্ষাব্যবস্থা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষাবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ রবিউল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে অবসরপ্রাপ্ত সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষাবিদ কিংবা সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে এসব কমিটি গঠন করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে আসত।

