
নিজস্ব প্রতিবেদক :ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ নিয়ে সময়ভিত্তিক একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। ওই বিশ্লেষণে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ভোটের হার, ভোটকক্ষের সংখ্যা এবং ভোটগ্রহণের সময় বিবেচনায় নিয়ে দাবি করা হয়েছে, ঘোষিত ভোটের পরিসংখ্যান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ফলাফল গ্রহণযোগ্য বলে মনে করার সুযোগ নেই।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ২ হাজার ৯৯২ জন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৭৯ জন, যা মোট ভোটারের ৬৩ দশমিক ৭১৪ শতাংশ। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৬৯টি এবং ভোটকক্ষ ছিল ৯৭৩টি।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টা বা ৫৪০ মিনিটে প্রতি ভোটকক্ষে গড়ে ৩২৯ দশমিক ৩৭২ জন ভোট দিয়েছেন বলে হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি ভোটারের দুটি ব্যালট—একটি প্রার্থীর জন্য এবং একটি গণভোটের জন্য—ব্যবহার করতে সময় পাওয়া গেছে গড়ে ১ দশমিক ৬৪ মিনিট বা ৯৮ দশমিক ৪ সেকেন্ড।
বিশ্লেষণে ভোটগ্রহণের ধাপগুলোও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটারের পরিচয় যাচাই, অমোচনীয় কালি প্রয়োগ, দুটি ব্যালট গ্রহণ, গোপন বুথে প্রবেশ করে সিল দেওয়া, ব্যালট ভাঁজ করা এবং নির্ধারিত বাক্সে ফেলা।
এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে একজন ভোটারের কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ মিনিট সময় প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়েছে। সে তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ মিনিটে দুটি ভোট সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি ধরে নেওয়া হয় ১ দশমিক ৬৪ মিনিটেই একজন ভোটার দুটি ভোট দিতে সক্ষম হন, তবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকক্ষের সামনে অব্যাহতভাবে ভোটারের দীর্ঘ সারি থাকার কথা। এমনকি নামাজ, দুপুরের খাবার বা অন্য কোনো কারণে ভোটগ্রহণে বিরতি পড়লেও নির্ধারিত সময়ের পরেও ভোটারদের অপেক্ষমাণ থাকার দৃশ্য দেখা যাওয়ার কথা।
তবে বিভিন্ন তথ্যসূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র দীর্ঘ সময় ভোটারশূন্য ছিল এবং সারাদিনব্যাপী এমন ধারাবাহিক ভিড় কোথাও দেখা যায়নি।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যদি একজন ভোটারের ভোট দিতে ৩ মিনিট লাগে, তাহলে ৫৪০ মিনিটে প্রতি ভোটকক্ষে সর্বোচ্চ ১৮০ জন এবং ৯৭৩টি ভোটকক্ষে মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪০টি ভোট গ্রহণ সম্ভব। এটি মোট ভোটারের ৩৪ দশমিক ৮১৯ শতাংশের সমান।
আর যদি একজন ভোটারের ৪ মিনিট সময় লাগে, তাহলে প্রতি ভোটকক্ষে ১৩৫ জন এবং মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৫টি ভোট গ্রহণ সম্ভব, যা মোট ভোটারের ২৬ দশমিক ১১৪ শতাংশ।
এছাড়া, বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র অর্ধেকেরও বেশি সময় ভোটারবিহীন ছিল। সে হিসাবে ৩ মিনিট ধরে সম্ভাব্য ভোট সর্বোচ্চ ৮৭ হাজার ৫৭০টি এবং ৪ মিনিট ধরে ৬৫ হাজার ৬৭৮টি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের এই বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ঘোষিত ভোটের সংখ্যা ও ভোটকেন্দ্রের বাস্তব চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ মিনিটের হিসাব ধরলে ঘোষিত ভোটের ৭২ দশমিক ৬৭৫ শতাংশ এবং ৪ মিনিটের হিসাব ধরলে ৭৯ দশমিক ৫০৬ শতাংশ পর্যন্ত ভোট কারচুপির মাধ্যমে দেখানো হয়ে থাকতে পারে। এসব যুক্তির ভিত্তিতে তিনি রংপুর-৩ আসনের ঘোষিত ভোটের ফলাফলকে সার্বিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

