
মেহেদী হাসান: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বহুল আলোচিত রাশিদা বেগম হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, দিঘলিয়া দক্ষিণপাড়ার মোছা. আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে ইসমাইল শেখ ওরফে বাবু, জামাই শামিম শেখ, মহেশ্বরপাশা এলাকার রাজু ওরফে রাজু মুন্সি এবং তেরখাদা উপজেলার ইলিয়াস শেখ। এদের মধ্যে শামিম শেখ ও আনোয়ারা বেগম আদালতে উপস্থিত থাকলেও অন্য তিনজন পলাতক রয়েছে। আদালত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নাসিরুজ্জামান তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ে ও বৃদ্ধ মা রাশিদা বেগমকে বাড়িতে রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাইরে যান। এই সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরের দল বাড়িতে প্রবেশ করে।
ঘটনা টের পেয়ে রাশিদা বেগম বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তারা ঘর থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।সেদিন প্রবল বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাড়ি ফিরতে দেরি হয় নাসিরুজ্জামানের। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে ঘরে ঢুকে খাটের নিচ থেকে মায়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন তিনি।
পরদিন ২০ জুলাই তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে একটি স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরে প্রথমে শামিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদেরও আটক করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এটিএম মনিরুজ্জামান জানান, শামিম ওই বাড়ির গৃহপরিচারিকা ছিলেন এবং তিনি বাড়ির ভেতরের তথ্য বাইরে সরবরাহ করতেন। তার তথ্যের ভিত্তিতেই অন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ও লুটপাট চালায়। ২০১৩ সালের ১২ মার্চ দিঘলিয়া থানার এসআই আসাদুজ্জামান পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অবশেষে ১৫ বছর পর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

