
শেখ আহসান হাবিব কালিগঞ্জ (উপজেলা) প্রতিনিধি :-কালিগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের লবণাক্ত অঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের নির্মাণের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। অধিক লাভের আশায় অনেক ঘের মালিক সড়কের একেবারে গা ঘেঁষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দূরত্ব ও সুরক্ষা বাঁধ (ভেড়ি) ছাড়াই ঘের নির্মাণ করায় বিভিন্ন স্থানে সড়কের প্রান্ত ধসে পড়ছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক স্থানে কার্পেটিং সড়কের পাশেই ঘেরের পানি অবস্থান করছে। ফলে সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে কোথাও কোথাও ফাটল ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি সড়ক কয়েক বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার বিষয়টি আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন কি এ বিষয়ে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা আছে কিন্তু নেই কোন কার্যত ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কের পাশে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে মাটির ধারণক্ষমতা কমে যায়। এতে সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে ধস ও ভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় ডেকে আনে।
আইন কী বলছে? সরকারি সড়কের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কার্যক্রম বাংলাদেশে আইনত দণ্ডনীয়। সড়কের জমি অবৈধভাবে দখল, সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হয় এমন কাজ কিংবা সড়কের ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, ক্ষতিপূরণ আদায়, জরিমানা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কারাদণ্ডসহ ব্যবস্থা নিতে পারে।স্থানীয়দের দাবি, শুধু সভা-সেমিনারে আলোচনা নয়, সড়কের দুই পাশে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঘের নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক রক্ষায় প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, সড়ক বিভাগ এবং মৎস্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় প্রতিবছর উন্নয়নে ব্যয় হওয়া কোটি কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ ভাঙনের কবলে পড়বে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

