
নিজস্ব প্রতিবেদক:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে হত্যার চেষ্টা এবং ৭ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে কালিগঞ্জ থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রতনপুর বাজারে বিএনপির রতনপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অস্থায়ী কার্যালয়ে বসে ছিলেন রফিকুল ইসলাম। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির রতনপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় খাইরুল আলম রানার নেতৃত্বে অন্য আসামিরা দা, রামদা, হাসুয়া, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাঁরা রফিকুলকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ে থাকা বিভিন্ন ছবি ও জাতীয় পতাকা টেনে ছিঁড়ে পদদলিত করার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, রফিকুল প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাঁকে মারধর শুরু করেন। এ সময় একজন ধারালো দা দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দিলে তিনি মাথা সরিয়ে নিলে কপালের ডান পাশে, চোখের ওপর গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আরেকজন হাসুয়া দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তা ঠেকাতে গিয়ে তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের নিচে কাটা জখম হয়। লোহার রডের আঘাতে বাম হাতের তর্জনীতে হাড় ভাঙার জখম হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে লাঠি ও কাঠের চলা দিয়ে মারধর করলে তাঁর কোমর ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। এ ছাড়া দুই ব্যক্তি গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর লুঙ্গির গাঁটিতে থাকা ৭ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ডান চোখে ঘুষি মেরে জখম করার অভিযোগও রয়েছে।
রফিকুলের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ইজিবাইকে করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর আসামিরা বিএনপির লোকজনকে এলাকায় থাকতে না দেওয়াসহ হত্যার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় মহিষকুড় এলাকার শোকর আলীর ছেলে ফাহাদ হোসেন , কাশিশ্বরপুরের মতিউর রহমানের ছেলে খাইরুল আলম রানা,গনেশপুর আব্দুর রহিমের ছেলে, মোহাম্মাদ আলী ও মহিউদ্দীন , মহিষকুড়ের হাশেম শাহাজীর ছেলে আব্দুর রহিম শাহাজী, রায়পুরের আব্দুল গফফারের ছেলে মোঃ সোহাগ ,গাঙ্কুলিয়া মোহাম্মাদ আলী গাইনের ছেলে আবু বক্কার গাইন ,গনেশপুরের কেরো আব্দুলের ছেলে রব্বানী মোড়ল,সুরাত শেখের ছেলে আজগার আলী,মহিষকুড় এলাকার শোকর আলীর ছেলে শেখ তাজিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর ভাই মোঃ শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে এজাহার থানায় দাখিল করতে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিনুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

