দৈনিক সাতনদী
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
    • রাজনীতি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • খুলনা
      • যশোর
        • বেনাপোল
        • শার্শা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • আন্তর্জাতিক
  • সাতক্ষীরা জেলা
    • সাতক্ষীরা সদর
    • তালা
    • কলারোয়া
    • পাটকেলঘাটা
    • আশাশুনি
    • দেবহাটা
    • কালিগঞ্জ
    • শ্যামনগর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • স্বাস্থ্য
    • করোনা ভাইরাস
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • শিক্ষা
  • সম্পাদকীয়
    • সাহিত্য
    • উপ-সম্পাদকীয়
    • মন্ত্রব্য প্রতিবেদন
শনিবার | ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি | রাত ১০:১৪
সাতক্ষীরায় ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া
আশাশুনির বুধহাটায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখল...
আশাশুনির বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে এসপি আশরাফুল আলম
আশাশুনির নবাগত সমাজ সেবা কর্মকর্তার প্রথম অনুষ্ঠানেই অনিয়ম-দুর্নীতির...
পাইকগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: নিষিদ্ধ আ’লীগ নেতাসহ গ্রেফতার...
পাইকগাছা প্রেসক্লাবের বর্ধিত সভা
উপকূলীয় জনপদে কৃষিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে প্রভাব...
শ্যামনগরে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ
সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা
কলারোয়ায় যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন
দৈনিক সাতনদী
Banner
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
    • রাজনীতি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • খুলনা
      • যশোর
        • বেনাপোল
        • শার্শা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • আন্তর্জাতিক
  • সাতক্ষীরা জেলা
    • সাতক্ষীরা সদর
    • তালা
    • কলারোয়া
    • পাটকেলঘাটা
    • আশাশুনি
    • দেবহাটা
    • কালিগঞ্জ
    • শ্যামনগর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • স্বাস্থ্য
    • করোনা ভাইরাস
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • শিক্ষা
  • সম্পাদকীয়
    • সাহিত্য
    • উপ-সম্পাদকীয়
    • মন্ত্রব্য প্রতিবেদন
শ্যামনগর

উপকূলীয় জনপদে কৃষিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি ও পরিবেশের উপর

কর্তৃক Satnadee Satkhira অক্টোবর ১০, ২০২৬
অক্টোবর ১০, ২০২৬ ০ কমেন্ট 15 ভিউস
ফারুক রহমান: দেশের দক্ষিণে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফসলের জমিতে কয়েক দশক নদী থেকে লোনা পানি তুলে চিংড়ি চাষের ফলে এই এলাকার মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে বর্তমানে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে সেখানে এখন আর চাইলেও মিষ্টি পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বিগত এক দশক স্থানীয় কৃষকরা চেষ্টা করছে জমিতে মিষ্টি পানির ফসল ফলাতে। সেজন্য তারা এখন কৃষিজমিতে বছরে একাধিকবার ধান চাষ করছে। একই সাথে হারিয়ে যাওয়া বীজ সংগ্রহ করে স্থানীয় বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফসলের চাষ করছে। জমিতে ফসল ফলাতে কৃষকদের এখন মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানারকম সমস্যার।
কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বদ্ধি ও রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ:
স্থানীয় কৃষিকাজে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের যেমন ক্ষতি হচ্ছে। তেমনি বাড়ছে কৃষকের খরচ। স্থানীয় কষকরা জমির মাটিতে লবণাক্ততা থাকায় অধিক পরিমাণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন জমি তার উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। কৃষককে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে অধিক হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। সময়মতো জমিতে সার ও কীটনাশক না ব্যবহার করলে উৎপাদন কম হচ্ছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে কৃষককে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। কৃষকরা এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে প্রাকৃতিকে সার ব্যবহার করে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন করছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার তার প্রায় পাঁচগুন বেশি ফসল পাচ্ছে। সে কারণে কৃষক বাধ্য হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে। এই অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমছে। আবার কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এর নানামুখি প্রতিক্রিয়াও দেখা দিচ্ছে। কৃষক প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন করছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে তার প্রায় দ্বিগুন বেশি ফসল উৎপাদন করছে। তবে, আশার কথা শ্যামনগর উপজেলায় কর্মরত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকরা ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় আশার আলো দেখছেন সাধারণ কৃষক।
ঋণনির্ভরতা:
কৃষক তার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার জন্য ঋণগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ কৃষক আর্থিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বী নয়। ফসল উৎপাদনের সময় তার হাতে টাকা থাকে না। তখন তাকে বীজ কিনে জমিতে চাষাবাদ শুরুর পর সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে না পারলে ফসল উৎপাদনে মার খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে কারণে কৃষককে সার ও কীটনাশক কেনার জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। কৃষক বীজ কোম্পানি, স্থানীয় সারের ডিলার, কীটনাশক ব্যবসায়ী, মহাজন ও ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করছে মৌসুমে। কিন্তু তাকে এই ঋণ পরিশোধ করার জন্য সারাবছর কিস্তি দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের নারী সদস্যসের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে। আবার কখনও কখনও স্থানীয় মহাজনদের নিকট থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।
পরিবেশ বিপর্যয়: 
দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলের কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। এখন আর এই অঞ্চলে আম, জাম, লেবু, নারিকেল, সবেদা, জামরুল এসব ফলের গাছ দেখা যায় না। আগে যেখানে প্রতিটি বাড়িতে বিভিন্ন ফলের গাছ ছিল, বাড়িতে পারিবারিকভাবে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন গাছ লাগানো হতে যা থেকে কাঠ সংগ্রহ করে ঘর ও ফার্নিচারের কাজে ব্যবহার করা হতো। এখন এসব গাছ আর খুজে পাওয়া যায় না। এলাকায় কোথাও কোথাও নারিকেল, কদবেল, তাল, কাঠাল গাছ দু’একটি থাকলে ফল আগের মতো হয় না। লোনা পানি আর কীটনাশকের থাবায় এসব স্থানীয় জাত হারিয়ে যেতে বসেছে। আগে বিভিন্ন ফল গাছ থাকায় পাখিরা বাসা তৈরি করে এলাকায় থাকতো। এখন পাখি ও স্থানীয় বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে শাামুক, ব্যাঙ, সাপ, জোনাক পোকা, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এলাকায় এখন নেই বললেই চলে। অনেক প্রজাতি একেবারে হারিয়ে গেছে।
কর্পোরেট কোম্পানির প্রভাব:
উপকূলের কৃষকরা কর্পোরেট কোম্পানির হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন কৃষকরা অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করে কৃষিকাজ চালিয়ে গেলেও এখন আর কর্পোরেট কোম্পানির বাইরে যেয়ে কৃষির কোনো কাজ করতে পারছে না। তাদের হাতে এখন আর বীজের নিয়ন্ত্রণ নেই। এলাকার ফসলের জমিতে লবণাক্ততা থাকায় স্থানীয় জাতের সব বীজের চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কৃষককে কর্পোরেট কোম্পানির নিকট থেকে বীজ কিনতে হচ্ছে। ওই বীজের চাষাবাদ করতে হলে তাকে অবশ্যই রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে জমিতে ফসল উৎপাদন হবে না। প্রতিবছর কৃষককে বীজ কিনতে হচ্ছে। আগে যেখানে কৃষক তার নিজ জমি থেকে উৎপাদিত ফসল থেকে বীজ বাড়িতে সংরক্ষণ করতো। আবার কৃষকরা বীজ বিনিময় করতে পারতো। উপকূলের কৃষক কোনোভাবেই কর্পোরেট কোম্পানির কব্জা হতে বের হয়ে কৃষিকাজ করতে পারছে না। কারণ তাদের হাতে না আছে বীজ, না আছে যথেষ্ট প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক, না আছে বড় পুঁজি। এই জনপদের কৃষককে বেঁচে থাকার তাগিদে, অস্তিত্ব রক্ষায় নিজেদের পূর্বপুরুষের জ্ঞান বিসর্জন দিয়ে কর্পোরেট কোম্পানির হাতে বন্দি হয়ে কৃষিকে এগিয়ে নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্যঝুকি বাড়ছে:
এই অঞ্চলে কৃষিতে ধারাবাহিকভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার উৎপাদিত সবজি ও ফসল মানব স্বাস্থ্যের জন্য নানারকম রোগবালাই বয়ে আনছে। নারী ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। একদিকে উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি ও ধান অপরদিকে লবণাক্ততা এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুকি বাড়িয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এখানকার নারীরা জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রতিক্রিয়ায় জরায়ু ক্যান্সার, চোখে কম দেখা, প্রজনন স্বাস্থ্যহানি, হার্টের সমস্যা, নিয়মিত সর্দিজ¦রসহ নানারকম রোগে সারাবছর আক্রান্ত থাকছে।
সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাঠামোগত সংকট:
উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার যে লড়াই সেখানে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজের উপর তলার মানুষের কাছে তা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই জনপদের কৃষকরা কখনও রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়নি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষির সমস্যা আর উপকূলীয় জনপদের কৃষির সমস্যা একরকম না। কিন্তু রাষ্ট্র কাঠামোতে এই অঞ্চলের কৃষকের জন্য আলাদা কোনো সেল নেই। দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলের কৃষির জন্য কৃষকরা আলাদা মন্ত্রণালয় অথবা অধিদপ্তর গঠনের দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো সরকার উপকূলীয় জপদের কৃষি ও কৃষকের অস্তিত্ব রক্ষায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যার করনে তারা বঞ্চিত থেকেই গেছে।
এত সংকটে মাঝেও আশার কথা শুনিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। সরজমিনে কথা হয় কৃষক টুম্পা রানী মন্ডল, কল্পনা রানী মিস্ত্রি ও যোগেশ চন্দ্র মন্ডলের সাথে। দীর্ঘ আলাপ এবং সরজমিনে তাদের কৃষি খেতে বসে কথা আলাপকালে তারা জানিয়েছেন স্থানীয়ভাবে কর্মরত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক কিভাবে তাদেরকে বিষমুক্ত সবজি ও ধান চাষে এবং ফল ও ফসল উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের অস্তিত্ব রক্ষায়। তারই ধারাবাহিকতায় বারসিকের সংগঠিত ‘শতবাড়ি’র সদস্য সফল কৃষক টুম্পা রানী মন্ডলের সাথে কথা হয় তার দশ কাঠা জমির কৃষি খামারে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলি গ্রামে টুম্পা রানী বারসিকের সহযোগিতায় প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষি কাজ করছেন। তিনি বলেন, বাবা-মাকে দেখেছেন খেতে কাজ করতে। কিন্তু তখন এত বেশি সার, কীটনাশক কিনে জমিতে দিতে হতো না। বাড়ির আবর্জনা, তরকারির কুটনো, ছাই এসব জমা করে বছরে একবার জমিতে ফেলে দিয়ে সেখানে চাষাবাদ করতে তার বাবা, চাচা, দাদা ও পূর্বপুরুষরা। কিন্তু এখন বীজ, সার ও কীটনাশক কোম্পানির নিকট থেকে কিনতে হয়। অনেক সময় কোম্পানির লোকজন বাড়িতে এসে নতুন জাতের বীজ ও নতুন নতুন সার ও কীটনাশকের নমুনা দিয়ে যায়। তবে, তিনি বারসিকের সহযোগিতায় নিজে স্থানীয় বীজ সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করার কাজ শুরু করেছেন। নিজের ও বর্গা নেওয়া জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক, পোকা মারার ফাঁদ ব্যবহার শুরু করেছেন।
প্রাকৃতিক সার ও প্রাকৃতিক জৈব বালাইনাশক ব্যবহার প্রসঙ্গে কৃষক টুম্পা রানী মন্ডল বলেন, বারসিকের সহযোগিতায় সবজি ও ধান খেতে প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষি কাজ করছেন। এতে তার খেতের ফসল কেনার জন্য একটি ক্রেতা গ্রুপ তৈরি হয়েছে যারা তার জমিতে প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদিত ফসল কেনার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করেন। তার সবজি ও ধান দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়।
আধুনিক কৃষি নিয়ে কথা হয় শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের কৃষক যোগেশ চন্দ্র মন্ডলের সাথে। তিনি বলেন, বর্তমানে সময়ে কৃষিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কর্পোরেট কোম্পানিগুলো নিয়মিত প্রান্তিক কৃষকের সাথে যোগাযোগ করছে। বিভিন্ন বাজার ও পাড়ায় নতুন নতুন বীজ, সার ও কীটনাশক নিয়ে তারা আমাদের কাছে আসছে। প্রতিবছর নতুন নতুন জাতের হাইব্রিড সবজি ও ধানের বীজ আমাদেরকে কখনও বিনামূল্যে, আবার কখনও নামমাত্র মূল্যে প্রথমবার দিয়ে যাচ্ছে। আমরা কৃষকরা এসব নতুন জাত চাষ করার পর পরের বছর বেশি লাভের আশায় ওইসব কোম্পানির ডিলারদের নিকট থেকে বীজ, সার ও কীটনাশক নিতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ এখানে উৎপাদন বেশি। আমাদের দেশিয় ও স্থানীয় জাতের ধান ও সবজির ফলন কম। বাধ্য হয়ে আমরা এসব কোম্পানির সাথে কাজ করছি। একসময় আমাদের বাপ-দাদারা স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ করে পরের বছর সেই বীজ ব্যবহার করতেন। বাড়িতে জমানো প্রাকৃতিক সার যেমন- ছাই, তরকারির কুটনো, গাছের পচা পাতা, গরুর শুকনো গোবর এসব দিয়ে তারা চাষবাষ করতেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় লোনাপানির প্রভাবে এলাকায় গাছপালা কমে গেছে। কোথাও কোথায় কোনো গাছ নেই বললেই চলে।
যোগেশ চন্দ্র মন্ডল আরও বলেন, তার মতো আরও অনেক কৃষক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সাথে হওয়ায় সামনে তারা আশার আলো দেখছেন। স্বল্প পরিসরে তারা স্থানীয় জাতের বীজ চাষবাষ শুরু করেছেন। সেখানে ব্যবহার করছেন প্রাকৃতিক সার ও বালাইনাশক।
ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের কৃষক অল্পনা রানী মিস্ত্রি বলেন, তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে জড়িয়ে আছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সাথে। বারসিকের সহযোগিতায় কল্পনা রানী মিস্ত্রী এলাকায় নারী কৃষকদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন কয়েকটি কৃষক দল। এই কৃষক দলের সদস্যরা বিগত প্রায় এক দশক ধরে স্থানীয় জাতের ধান, সবজি, ফল, ফুলসহ বিভিন্ন বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময় করছেন। এখন কৃষক অল্পনা রানী মিস্ত্রির সংগ্রহে চার শতাধিক বিভিন্ন জাতের স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ আছে। তিনি এলাকার কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ ও বিনিময় করেন। প্রতিনিয়ত তার বীজ সংরক্ষণের সংখ্যা বাড়ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় লবণাক্ত জমিতে ফসল, সবজি ও ধান চাষে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, লবণ সহনশীল জাতের সম্প্রসারণ, জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধি, পলিমালচের ব্যবহার বৃদ্ধি, বস্তায় আদা ও সবজি চাষ সম্প্রসারণ, মিনি পুকুর খনন, ড্রিপ ইরিগেশন, ঘেরের আইলে অমৌসুমি তরমুজ ও সবজি চাষ, বিনা চাষে সরিষা, খেসারি, ভুট্টা চাষ, সাথি ফসল হিসেবে সবজি চাষ (আখের সাথে মসুর ও ছোলা, সল্পজীবনকালীন সবজি, সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষ বৃদ্ধি, টাওয়ার পদ্ধতিতে সবজি চাষ, সরজান টেকনিকে অবলম্বন, বেড নালা পদ্ধতিতে শাক ও সবজি চাষ, লবণ সহনশীল ফল সূর্যমুখী,কদবেল, সফেদা, তেতুল,নারিকেল, আমলকি চাষ।
০ কমেন্ট
0
FacebookTwitterPinterestEmail
পূর্ববর্তী পোস্ট
শ্যামনগরে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ
পরবর্তী পোস্ট
পাইকগাছা প্রেসক্লাবের বর্ধিত সভা

রিলেটেড পোস্ট

শ্যামনগরে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ

অক্টোবর ১০, ২০২৬

শ্যামনগরে শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় ছাত্রীশূন্য বিদ্যালয়ে বই উত্তোলন:...

অক্টোবর ১০, ২০২৬

শ্যামনগরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন

অক্টোবর ১০, ২০২৬

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়ূন...

অক্টোবর ৯, ২০২৬

শ্যামনগরে অশ্রুসিক্ত বিদায়ে অবসরে গেলেন শিক্ষক আব্দুল মজিদ

অক্টোবর ৯, ২০২৬

শ্যামনগরে যুবককে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ...

অক্টোবর ৮, ২০২৬

শ্যামনগরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বাড়িতে দিনদুপুরে দুর্ধর্ষ চুরি

অক্টোবর ৮, ২০২৬

শ্যামনগরে স্থানীয় মানুষের অধিকার এবং এ্যাডভোকেসি বিষয়ক প্রশিক্ষণের...

অক্টোবর ৮, ২০২৬

শ্যামনগরে ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

অক্টোবর ৭, ২০২৬

মতামত দিন উত্তর বাতিল করুন

You must be logged in to post a comment.

সম্পাদকীয় কার্যালয়

একাডেমী মসজিদ সড়ক
মুনজিতপুর, সাতক্ষীরা ।
মোবাইল: ০১৭১১-৪৫০০২৫
ই-মেইল: dailysatnadee@gmail.com

ফেসবুকে নিউজ পেতে পেজ লাইক দিন।

Facebook
  • Facebook
  • Twitter
  • Youtube

© ২০২৩ দৈনিক সাতনদী । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। কারিগরি সহযোগিতাঃ Site Hosted and Developed By Deshi Hosting