
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি থেকে: আশাশুনি উপজেলায় নবাগত সমাজ সেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সমাজ সেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন আশাশুনিতে যোগদানের পর গত ১ অক্টোবর প্রথম কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালন করা হয়। উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অনুষ্ঠান হলেও ছিলনা জন সমাগম, ছিলনা প্রবীণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। যেনতেন ভাবে দায়সারা গোছে অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।
উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনের সড়ক থেকে র্যালি বের করা হয়,র্যালিটি সর্বোচ্চ ২০/৩০ হাত গিয়ে শেষ করা হয়। অর্থাৎ ফটোসেশনের মধ্যদিয়ে র্যালির সমাপ্তি ঘটে। র্যালিতে আমন্ত্রিত অতিথি, কয়েকজন আধা প্রবীণ, গোটা কয়েক যুবক-এনজিও কর্মী অংশ নেন। কথিত র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আলোচনা সভা করা হয়। ২০/৩০ জন মানুষের অংশ গ্রহনে আলোচনা সভা করা হয়। সভায় হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ উপস্থিত থাকলেও প্রবীণদের কোন বক্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেয়া হয়নি। হয়নি সন্তানতূল্য যুবকের কাছ থেকে কোন কথা শোনা। এনজিও কর্মকর্তা-কর্মী ও সাংবাদিকদের কোন কথাও শোনা হয়নি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সমাজ সেবা অফিসার ও দু’জন রাজনৈতীতিবিদ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত অংশ গ্রহনকারীদের সমালোচনামুখর হতে দেখা যায়।
আরও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়, সরকারি ভাবে বরাদ্দ থাকার পরও সমাজ সেবা কর্মকর্তা অনুষ্ঠানের খরচ নির্বাহে সহযোগিতার কথা বলে ৬টি এনজিওর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যানারে ফ্রেন্ডশীপ, উত্তরণ, ইএসডিও, বারসিক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, ন্যাজারিন মিশন ও আইডিয়াল এনজিও’র নাম ও মনোগ্রাম লিপিবদ্ধ করা হয়। খোজ নিয়ে জানাযায়, অনুষ্ঠানে ব্যানার, নাস্তাসহ মোট খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬০ টাকা। এনজিওদের থেকে নেয়া চাঁদার টাকায় খরচের টাকা প্রায় পুরন হয়ে গেছে। আর সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের খাতায় রয়েগেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সচেতন মহলের দাবী অবিলম্বে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যেনতেন অনুষ্ঠান করে সরকারি টাকার অপচয় ও সময় নষ্ট করা থেকে আশাশুনিবাসী পরিত্রাণ চায়- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তারা সুন্দর ও সরকারি স্বার্থ রক্ষা হয় তেমন অনুষ্ঠান দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী মৃনাল স্বর্নকার জানান, এনজিওদের থেকে টাকা আদায় হয়েছে, খরচ হয়েছে ৪৯৬০ টাকা। ৩টি অনুষ্ঠানের জন্য ২৫ হাজার টাকার বরাদ্দ হয়েছে, পরে টাকা পাওয়া যাবে।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন অভিযোগের জবাব না দিয়ে বলেন, অফিসে আসলে কথা হবে।

