
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাড়া দেওয়া দোকানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার দিবাগত রাতে প্রতাপনগর পশ্চিম মাথার বিট হাউস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুনে দোকানে থাকা প্রায় ছয় লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মালামাল ও গ্রাহকদের কাছে পাওনার হিসাব সংবলিত খাতা পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন দোকানের ভাড়াটিয়া মারুফ বিল্লাহ।
ঘটনার তিন দিন পার হলেও এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দোকানটির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান। তার কাছ থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়ে ‘মহিব টেলিকম অ্যান্ড স্টোর’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করেন মারুফ বিল্লাহ। দোকানের পেছনেই আজিজুর রহমানের বাড়ি।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে মারুফ বিল্লাহ উল্লেখ করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিকাশে টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে তার ছোট ভাই মহিবুল্লাহর সঙ্গে মো. মেহেদী হাসানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেহেদী তার ভাইকে দোকান থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যান এবং তার মুঠোফোন নিয়ে নেন। এ সময় দোকানে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এলে মেহেদী মহিবুল্লাহকে বিভিন্ন ধরনের খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান।
মারুফ বিল্লাহর ভাষ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে তার ছোট ভাই দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লিয়াকত আলী মুঠোফোনে ফোন করে দোকানে আগুন লাগার খবর দেন। পরে তার ছোট ভাই, বাবা আজিজুর রহমান, মা মাহমুদা খাতুনসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
মারুফ বিল্লাহ অভিযোগ করেন, আগুনে দোকানে থাকা প্রায় ছয় লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। একই সঙ্গে দোকানের খরিদ্দারদের কাছে পাওনা প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকার হিসাব সংবলিত খাতাও পুড়ে গেছে।
লিখিত অভিযোগে মো. আরাফাত হোসেন, মো. মেহেদী হাসান, মো. আবুজার, মো. রাজা হোসেন ও মো. হাবিবুল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দোকানে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মারুফ বিল্লাহ। তবে অভিযোগের পক্ষে তার দাবিগুলো তদন্তে যাচাই করা হবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্ত কয়েকজনসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের ভ্যানে করে ঘটনাস্থলের দিকে যাতায়াত করতে এলাকার কয়েকজন দেখেছেন। এ বিষয়ে কয়েকজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের ছেলে গাজী আরেফিন বলেন, আগুনে দোকানের পাশাপাশি তাদের বাড়ির আশপাশের খেজুর, তেঁতুল, আম ও কলাগাছ এবং কবুতরের ঘরেরও ক্ষতি হয়েছে। তার ভাষ্য, ঘটনার পর দোকানের ভাড়াটিয়া মারুফ বিল্লাহ থানায় অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখনো মামলা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতাপনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধার দোকান ভাড়া নিয়ে অন্য একজন ব্যবসা পরিচালনা করেন। সেখানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি বলেন, আগুন কে দিয়েছে, সেটা তো আমরা দেখিনি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে মামলা বা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আগুন দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

