
আইয়ুব আলী: শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ছোট্ট একটি অংশ গোলাখালী। গহীন সুন্দরবনের শুরুর মধ্যেই ৮৮ পরিবারের বসবাস। বলা যায় সুন্দরবনের মধ্যেই। উন্মুক্ত এলাকায় দেখা যায় বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল এই ৮৮ পরিবার ঘেরাবেড়া দিয়ে রীতিমতো বসবাস করছে। যেতে গেলে নদী পার হতে হয়। তবে স্থানীয়দের ধারণা, গোলাখালী দ্বীপে ‘সুন্দরবন ইকোপার্ক’ নির্মিত হলে এই অঞ্চলের পর্যটনে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর অংশ হিসেবে কালিঞ্চী থেকে গোলাখালী পর্যন্ত একটি সেতু, ঝুলন্ত ব্রিজ, জিপ লাইনিং ও ক্যাবল কার স্থাপন করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে পর্যটকরা সহজেই সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। নতুন ভবন তৈরি করে বিদেশি পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে করে পাখিদের কলকাকলি আর বন্য প্রাণীর ডাকে ঘুম ভাঙবে। ভোরের আলোয় ব্যালকনিতে এসে একনজরে দেখা যাবে সুন্দরবন ও ৫ নদীর মোহনা। নদীর বুকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। পর্যটকদের সুরক্ষা দিতে পাশে আছে বন বিভাগের স্টেশন, বিজিবি ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ ক্যাম্প ও কোস্টগার্ড স্টেশন। অন্যদিকে ইকোপার্কটি চালু হলে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। শ্যামনগর উপকূলের মানুষ সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে সুন্দরবনের মোট এলাকার প্রায় ৫২ শতাংশ অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে এ অঞ্চলের মানুষ গভীর সুন্দরবনে গিয়ে মাছ-কাঁকড়া আহরণ করতে পারছে না। অন্যদিকে সরকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ-কাঁকড়া প্রজননের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদাভাবে সুন্দরবন বন্ধ করে দেয়। সে ক্ষেত্রে দিন দিন মানুষ অসহায় হয়ে পড়ছে। মাইগ্রেশন বা ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে বেছে নিচ্ছে বাইরের কর্মসংস্থান। এতে করে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ অর্থনৈতিকভাবে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলতা কমায় সুন্দরবননির্ভর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতি বছর বছরের প্রায় ৬ মাস গ্রাম ছেড়ে বাইরে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে চলে যায়।

