
আশাশুনি প্রতিবেদক: আশাশুনি উপজেলায় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের চর্চা জোরদারের লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল মিডিয়া সাক্ষরতা: জানি, বুঝি, অংশ নিই’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উপলক্ষে ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ইফেকটিভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ (ফ্রিড)’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সরকারি কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি লিডার, তরুণ প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও সাংবাদিকসহ মোট ৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন। ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও ইউরোপীয় কমিশনের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘ফ্রিড’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। আইসিআরডিসিভি-৩ প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ শামসুল হক মৃধার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্যে রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু ।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সঠিক তথ্য যাচাই, বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ‘ফ্রিড’ প্রকল্পকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের সচেতন, দায়িত্বশীল এবং ইতিবাচক ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সভায় ইএসডিও’র সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ও প্রকল্পের সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়কারী,ফ্রীড প্রকল্প মোঃ মাসুকুল হক মাসুক প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা একটি চমৎকার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নসহ মোট সাতটি ইউনিয়নে ৪০টি ব্যাচের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১,০০০ জন তরুণ-তরুণীকে মতপ্রকাশ ও ডিজিটাল মিডিয়া সাক্ষরতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ, প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীদের এক তরুণের প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি জানান, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা সমাজে একজন সুনাগরিক হিসেবে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল মতপ্রকাশ, গণমাধ্যম সচেতনতা ও নাগরিক অধিকার বিষয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে তা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি লিডার এবং তরুণ সমাজসহ সকল অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তিনি নিজেও প্রশিক্ষণ সেশন কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় বড়দল ইউনিয়নের প্রশাসক ও আইসিটি প্রোগ্রাম অফিসার আক্তার ফারুক বিল্লালও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং প্রশিক্ষণ সেশন পরিদর্শন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকাশ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন লিংকন,চাম্পাফুল ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ সচিব সাইদুর রহমান, শ্রীউলা ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, আনুলিয়া ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, আশাশুনি সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি মো. আল মামুন প্রমূখ।

