
প্রমথ সানা পাইকগাছা :খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, “বেসরকারি শিক্ষকরা রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশ গঠনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষকরাই সমাজের মূল কারিগর এবং তারা বিভিন্নভাবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখছেন।” ৪ এপ্রিল শনিবার দুপুরে পাইকগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে এদিন শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে মানপত্র ও সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়।
শিক্ষকদের মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে এমপি আজাদ বলেন, “শিক্ষকদের সর্বদা সম্মানের আসনে বসাতে হবে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষকদের সাথে কোনো ধরনের বৈষম্য করা চলবে না। তাদের যথাযথ সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের সভাপতি বানিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। এবার আর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তি বিশেষ দেখে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হবে না। আমরা সৎ, যোগ্য ও ভালো মানুষকে বেছে নেব। আমি নিজে দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগও দেব না।”
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশ দেন যেন কোনো দল বা ব্যক্তির দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাও. গোলাম সরোয়ার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাও. আমিনুল ইসলাম এবং জেলা ইউনিট সদস্য মাও. কামাল হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. সাঈদুর রহমান, নায়েবে আমীর মাও. বুলবুল আহমেদ, সেক্রেটারি মাও. আলতাফ হোসেন ও সহকারী সেক্রেটারি মাও. আব্দুল খালেক। শিক্ষক বাবর আলী গোলদার ও শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান, দীপক চন্দ্র সরকার, দীপঙ্কর দত্ত, খায়রুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, শেখ আব্দুস সালাম এবং সাধুচরণ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

