
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজারে কর্মরত এক চিকিৎসককে চেম্বারে অবরুদ্ধ করে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানহানি ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাগেরহাটের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, শরণখোলা আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে— সোহাগ শেখ, হেলাল তালুকদার, রুহুল আমীন বাবু, কামরুজ্জামান, রিফাত আল মাহমুদ, সৈকত মণ্ডল, মেহেদী হাসান, সাগর মণ্ডল, শরিফাতুজ্জাহান, নুরুন্নাহার বেগম, শ্রাবণী মণ্ডল ও রেবা বেগমকে।
মামলার বাদী ইন্টিগ্রেটেড ফিজিসিয়ান মো. মাহামুদুল হাচান অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রায়েন্দা বাজার এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তার পেশাগত সুনাম ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ মে বিকেলে একটি সংঘবদ্ধ দল তার চেম্বারে প্রবেশ করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় চেম্বারের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং চিকিৎসককে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বাদীর দাবি, এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪৪৮, ৪০৬, ৪২০, ৩৪২, ৩৮৫, ৪১৯, ৪৫২, ৪২৭, ৫০০, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-কে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলাম। কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করা হয়নি।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

