
নিজস্ব প্রতিবেদক: ৮ম শ্রেনীতে কালীনসময়ে বিয়ে হয় মর্জিনা খাতুনের। অভাব অনাটনের সংসার তখন । সংসারের পাশে পাশাপাশি দর্জিকাজে প্রশিক্ষন নিলেও শুরুটা এতটা সহজ ছিলনা ।হঠাৎ একদিন বেসরকারী সংস্থা মুসলিম এইডের ইউএসডিও প্রকল্পে প্রশিক্ষন নেন । এরপর সেখান থেকে কয়েক প্রকার বীজ শুরু করেন বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ । ধীরে ধীরে জড়িয়ে পরেন মাছ চাষ ও ছাগল পালনে । মজিনা এখন দুই সন্তানের জননী । সংসারের পাশাপাশি তিনি একজন সফল উদ্যক্তা । শুধু মর্জিনা নয় ওই এলাকার ঝর্না ব্যানার্জী ,ফাল্গুনী মন্ডল ও বিলকিস পারভীনের মত নারীর জীবন বদলে গেছে মুসলিম এইডের ইউএসডিও প্রকল্পের ছোয়ায় ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অ্যাডভোকেসি, নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতা সভা এই সফলতার গল্প তুলে ধরেন তারা । সংস্থাটির তথ্য বলছে ,২০২৩ সালে সাতক্ষীরা জেলায় প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় । বর্তমানে চলমান প্রকল্পে সদস্য রয়েছে ৬ হাজার ৭ শত ২০ জন । এর মধ্যে উপকারী ভোগী নারী রয়েছে ৭২৮ জন ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবির, জেলা প্রশিক্ষন কর্মকর্তা ডা. বিষ্ণুপদ বিশ্বাস, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত -পরিচালক জামাল উদ্দিন, জেলা সহকারী মৎস কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মো. শফিকুল ইসলাম,আশাশুনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো আব্দুস সোবাহান, বেসরকারী সংস্থা মুসলিম এইড ইউকের প্রকল্প সমন্বয়কারী এস. এম. মনোয়ার হোসেন প্রমুখ ।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, তাদের জীবিকা সুরক্ষা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ পর্যায়ের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা ।
সভা সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. শামসুল হক মৃধা।

