
এস এম আলমগীর হোসেন: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের জামালনগরে ভোগদখলে থাকা একটি মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তার জামাতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রশাসনের দারস্ত হয়েছে ভুক্তভোগী।
অভিযোগে জানা গেছে , জামালনগর গ্রামের মৃত মোকাব্বেল হোসেনের ছেলে মোতাহার হোসেন প্রায় ১৩ বছর ধরে নিজ মালিকানাধীন মৎস্য ঘেরে মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কে এম রকিবুজ্জামান তার জামাতা রনিকে সঙ্গে নিয়ে ওই ঘেরের জমিতে বসতঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে খুঁটি পুঁততে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন মোতাহার হোসেনের পরিবার।
মোতাহার হোসেনের স্ত্রী রাশিদা খানম বলেন, “আমাদের জমির সকল বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। ২০১৪ সালে আমরা কে এম আজাদুল ইসলামের স্ত্রী মাহবুবা ইসলামের কাছ থেকে ৫০ শতক জমি ক্রয় করে দখল বুঝে নিই। তারপর থেকেই আমরা সেখানে মাছ চাষ করে আসছি। কিন্তু ইউপি সদস্য রকিবুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে এই ঘের দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এবারও তিনি তার জামাতাকে সঙ্গে নিয়ে ঘেরের মধ্যে বসতঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে খুলনায় পড়াশোনা করে, স্বামী ব্যবসার কাজে অধিকাংশ সময় গোয়ালডাঙ্গা বাজারে থাকেন। আমি বাড়িতে একা থাকি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা জোরপূর্বক ঘের দখলের চেষ্টা করছেন। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন হোসেন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মোতাহার চাচা এই ঘেরে মাছ চাষ করছেন। গতকাল সকাল প্রায় ১১টার দিকে দেখি ইউপি সদস্য রকিবুজ্জামান ও তার জামাতা রনি সেখানে ঘর নির্মাণের জন্য খুঁটি পুঁতছেন। বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই দুঃখজনক লেগেছে।
প্রতিবেশী মঞ্জুয়ারা খাতুনও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, “আমি ছোটকাল থেকে দেখছি এই ঘের মোতাহার চাচার দখলেই আছে। আমরা চাই, তার বৈধ সম্পত্তি তিনি যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করতে পারেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে ইউপি সদস্য কে এম রকিবুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোনটি রিসিভ করেননি।

