
মোহাম্মদ মুজাহিদ: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ও ওষুধ খাতের নানা অরাজকতা বন্ধে সাতক্ষীরায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও ওষুধ প্রশাসন। অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন ওষুধের ফার্মেসিতে এক ঝটিকা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেন এবং সুমাইয়া রহমান-এর যৌথ নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন ওষুধ প্রশাসন সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের ড্রাগ সুপার মো: বাশারাফ হোসেন। অভিযান চলাকালে ঝাউডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড এলাকার বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে ড্রাগ আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অপরাধ ও অনিয়ম ধরা পড়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ সংরক্ষণ এবং সঠিক নিয়ম মেনে কেনাবেচা না করা। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধে জড়িত চার ওষুধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তা নগদ আদায় করা হয়।
এসময় মেসার্স সিয়াম ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা, মেসার্স ইকবাল ফার্মেসি ৫ হাজার টাকা, মেসার্স পপুলার ফার্মেসী ৫ হাজার টাকা, মেসার্স পপুলার ফার্মেসী-২ কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযান শেষে ড্রাগ সুপার মো: বাশারাফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ওষুধ কোনো সাধারণ পণ্যের মতো নয়, এটি মানুষের জীবনের সাথে সরাসরি জড়িত।
ফার্মেসিগুলোতে লাইসেন্স নবায়ন না রাখা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা কিংবা সরকারি-অননুমোদিত ওষুধ মজুদ করা গুরুতর অপরাধ। ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ ওষুধ পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ফার্মেসি বা ওষুধ ব্যবসায়ী যদি আইন অমান্য করে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ড্রাগ আইনে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটগণও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনস্বার্থে এবং ফার্মেসি খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি নির্মূল করতে জেলা প্রশাসনের এ ধরণের আপসহীন ও ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

