
★১৪ মৌজার ৬ হাজার বিঘা মৎস ঘের-ফসলি জমি ঝুঁকিতে, আতঙ্কে এলাকাবাসী
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি থেকে: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১০০ মিটার বেড়িবাঁধের বড় অংশ হঠাৎ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে আকস্মিক ভাবে এ ভাঙনে বাঁধের বড় একটি অংশ নদীতে চলে যায়। ফলে পুরো বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধ ও বাঁধ সংস্কার না করা হলে প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভাঙনের পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর প্রবল স্রোতে ভাঙনস্থল আরও বিস্তৃত হলে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার মাছের ঘের, ধানের জমি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশের বাঁধের ভাঙনস্থল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধের অবশিষ্ট অংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, প্রতাপনগরের বিস্তীর্ণ জনপদও প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়বে।
ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ রক্ষার কাজে হাত দিয়েছেন। মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ করান। উপজেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রিয়াছাত আলী এবং ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওঃ ওহিদুজ্জামান স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করান। স্থানীয়দের পাশাপাশি পাউবোর উদ্যোগে চার শতাধিক মানুষ বাঁধ রক্ষা ও সংস্কারকাজে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পাউবো’র এসডিই রাশিদুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল আফসার মর্তুজা, উপজেলা আমির আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা ভাঙনস্থলের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এলাকাবাসী জানান, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীর স্রোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বাঁধটি রক্ষা করা না গেলে ১৪ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার এবং স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিই রাশেদুজ্জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থলে সকাল ৮ টা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। তাৎক্ষিকভাবে বাঁশের পাইলিং করে ভিতরে জিও ব্যাগে মাটি ভরে ডাম্পিং করা হচ্ছে। যত রাত হোক কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।

