
আবু রায়হান: সাতক্ষীরার উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগরের
গাবুরা ইউনিয়নে মেঘা প্রকল্পের নবনির্মিত বেড়িবাঁধ বাধ কেটে
মৎস্যঘের ব্যবসায়ীদের বসানো অসংখ্য নাইনটি পাইপ অপসারন করা
হয়েছে| মঙ্গলবার সকালে নবনির্মিত বেড়িবাঁধ রক্ষার্থে ও জন¯^ার্থে এ
অভিযান চালানো হয়| গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জি.এম মাছুদুল
আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় জনসাধারন ও উপজেলা নির্বাহি অফিসার
শামছুজ্জাহান কনকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম
সেখানে অভিযান চালিয়ে এসব নাইনটি পাইপ অপসারন করেন| সকাল
থেকে গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ডুমুরিয়া, চাঁদনীমুখা ও ৯ নং
সোরা এলাকার মেঘা প্রকল্পের বেঁড়িবাধ থেকে এসব নাইনটি পাইপ
অপসারণ করা হয়|
এসময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার ভুমি রাশেদ
হোসাইন, শ্যামনগর থানার ওসি শফিউল ইসলাম পাটোয়ারী,
পানিউন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারসহ থানা
পুলিশের একটি টিম|
জানা যায়, চিংড়িঘেরে নদীর লবন পানি সরবরাহের জন্য স্থানীয়
প্রাবশালীরা সম্প্রতি উপকূলীয় অঞ্চলের বেঁড়িবাধ সুরক্ষায় সরকারের
মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধের উপরিভাগের ব্লক
সরিয়ে বাঁধ কেটে ও ছিদ্র করে পাইপের সাহায্যে সেখানে এসব
নাইনটি স্থাপন করেছিল| এর ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত
এই বাঁধটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল|
পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার জানান, এখনো
পর্যন্ত গাবুরার চারপাশে টেকসই বাঁধ নির্মান কাজ শেষ হয়নি|
অনেকে নৌকা আটকানোর জন্য খুঁটি স্থাপনের পাশাপাশি কয়েকজন
রীতিমত নির্মানাধীন বাঁধ কেটে পাইপের সাহায্যে নাইনটি স্থাপন
করেছে| বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিজে থেকে নাইনটিগুলো
অপসারণে নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও স্থানীয়রা তাতে কর্নপাত করেনি|
বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে বাঁধের জন্য ক্ষতিকর
নাইনটি গুলো অপসারণ করা হয়েছে|
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জি. এম. মাছুদুল আলম জানান, উপকূলীয়
অঞ্চলের সুরক্ষায় সরকারের মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টেকসই
বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে কিছু মৎস্যঘের মালিক অবৈধভাবে ‘নাইনটি’
পাইপ স্থাপন করে আসছিলেন| এর ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে
নির্মিত এই বাঁধটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল| নদী ভাঙন ও পরিবেশ
বিপর্যয়ের হাত থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া
হয়েছে|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, টেকসই বাঁধ
নির্মাণের অংশ হিসেবে এক হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে গাবুরার
চারপাশজুড়ে পুনর্বাসন প্রকল্প চলমান| বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যেই কিছু
ব্যক্তি সদ্য নির্মিত বাঁধের উপরের ব্লক সরিয়ে মাটি কেটে পাইপ
স্থাপনের মাধ্যমে নাইনটি তৈরি করেছে| খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে
বিভিন্ন অংশের বাঁধ হতে অসংখ্য নাইনটি পাইপ অপসারণ করা
হয়েছে| পরবর্তীতে কেউ বাঁধের ক্ষতির চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা
হবে|

