
মেহেদী হাসান, খুলনা : জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ প্রহরে দিনের কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে যেন পুড়ে যাচ্ছিল খুলনা মহানগরী। দুপুর গড়াতেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হতে শুরু করে। তীব্র তাপদাহে হাঁসফাঁস করছিল নগর জীবন। কিন্তু সেই গরমের দাপটের মধ্যেই রাত নামার পর আচমকা বদলে যায় প্রকৃতির রূপ। ঝড়ো হাওয়ার পর হালকা বৃষ্টি এসে নগরবাসীকে দেয় বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তি।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) রাত ৮টার পর থেকেই খুলনার আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকা হাওয়া বইতে থাকে নগরজুড়ে। দিনের তপ্ত পরিবেশে ক্লান্ত মানুষ তখন অপেক্ষা করছিল একটু স্বস্তির জন্য। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। রাত ১০টার পর শুরু হয় হালকা বৃষ্টি। খুব বেশি সময় স্থায়ী না হলেও এই বৃষ্টিই যেন পুরো শহরের আবহ বদলে দেয়।
দিনভর সূর্যের তীব্র তাপে সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিলেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বাইরে কাজ করা মানুষজন গরমে প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রচণ্ড রোদে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হননি। কেউ কেউ ছাতা, গামছা কিংবা পানির বোতল সঙ্গে নিয়েও গরমের কাছে হার মানছিলেন।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের লোড ও ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ঘরের ভেতরেও স্বস্তি মিলছিল না। শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট ছিল চোখে পড়ার মতো। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাতের বৃষ্টি অনেকের কাছে হয়ে ওঠে স্বস্তির বার্তা।
বৃষ্টির পর খুলনার অলিগলি ও প্রধান সড়কে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কোথাও শিশুরা বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ করছে, কোথাও ছাদে দাঁড়িয়ে মানুষ উপভোগ করছে ঠাণ্ডা বাতাস। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃষ্টির ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, কয়েকদিন ধরেই খুলনায় তাপমাত্রা ও গরমের তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কম থাকায় ভ্যাপসা গরম আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। তাই রাতের এই সামান্য বৃষ্টিও মানুষের মাঝে এনে দিয়েছে বড় ধরনের স্বস্তি।
তবে আবহাওয়া সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও জ্যৈষ্ঠের শেষ সময়ে তাপদাহ পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না। আগামী কয়েকদিন আবারও বাড়তে পারে গরমের তীব্রতা।
তারপরও নগরবাসীর প্রত্যাশা এভাবেই হয়তো ধীরে ধীরে খুলনার আকাশে জমবে আরও কালো মেঘ, নামবে স্বস্তির বৃষ্টি, আর বিদায় নেবে দীর্ঘদিনের দাবদাহ।

