
মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ ব্যুরো :
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৬৫নং রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি/২০২৬-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য জালিয়াতি ও বিধি বহির্ভূতভাবে এফিডেভিটের মাধ্যমে ছাত্রের অভিভাবক সাজার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের পক্ষে মো. রবিউল ইসলাম গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে পদ পাওয়ার উদ্দেশ্যে আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি ৫ম শ্রেণির ৯ রোলধারী শিক্ষার্থী আরিফ শাহরিয়ার ফাহিমের অভিভাবক হওয়ার জন্য এফিডেভিট করেছেন। অথচ ওই শিক্ষার্থীর প্রকৃত পিতা ফারুক হোসেন এবং মাতা খালেদা পারভীন। বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অভিভাবক হিসেবে আলতাফ হোসেনের কোনো নাম না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ফন্দিফিকিরে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তিনি নানা প্রকার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আলতাফ হোসেনের কোনো সন্তানাদি নেই। এছাড়া তিনি পূর্ববর্তী ম্যানেজিং কমিটিতেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট দলের ওয়ার্ড সদস্য হওয়ার সুবাদে অবৈধভাবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। বর্তমান কমিটিতেও একই পদে আসার মানসে তিনি নানা প্রকার ষড়যন্ত্র ও হুমকি-ধামকি দিয়ে চলায় এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সেলিম বলেনে আমি স্কুল থেকে ম্যানেজিং কমিটির সকল নথিপত্র বিধি মোতাবেক করেছি। শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর জমা দিয়েছি। পাশ করা না করা তার দায়িত্ব।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার বিশ্বাস বলেনি আমরা ২ জন শিক্ষানুরাগীর নাম উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর জমা দিয়েছি। উনি কাকে নির্বাচিত করবেন সেটা তার ব্যাপার।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায়, এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি বিধি মোতাবেক সঠিক প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠনের স্বার্থে উক্ত এফিডেভিট বাতিল পূর্বক ম্যানেজিং কমিটি গঠন সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ এবং বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

