
জি.এম ফারুক হোসেন,শ্যামনগর:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের মিষ্টি। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান তদারকি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে শ্যামনগর বাজার বংশিপুর বাজার মুন্সিগঞ্জ বাজার, হরিনগর বাজার ও ভেটখালী বাজার ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ মিষ্টির দোকানের কারখানায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। কারখানার ভেতরে মশা, মাছি ও তেলাপোকার উপদ্রব চোখে পড়ার মতো। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে কারিগররা খালি হাতে মিষ্টি তৈরি করছেন। ব্যবহৃত গামলা, কড়াই, প্লেট ও অন্যান্য সরঞ্জামও রয়েছে অত্যন্ত নোংরা অবস্থায়।
বিশেষ করে বংশিপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচা মাছ ও পোল্ট্রি মুরগির বাজারের পাশেই গড়ে উঠেছে মিষ্টির কারখানা। মাছের বাজারের দুর্গন্ধ, পচা বর্জ্য ও মাছির উপদ্রব সরাসরি মিষ্টি তৈরির পরিবেশকে দূষিত করছে। মাছ বিক্রির পর অবশিষ্ট বর্জ্যের পাশেই চলছে মিষ্টি প্রস্তুতের কাজ। মাছির ঝাঁক কখনো কড়াইয়ে, কখনো প্রস্তুত ময়দা ও মিষ্টির ওপর বসতে দেখা গেছে, যা ভোক্তাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এছাড়া অনেক কারখানায় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত পুরনো তেল দিয়ে মিষ্টি ভাজার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিনির সিরার পাত্রে মরা মশা-মাছি, তেলাপোকা এমনকি ইঁদুরের মল লক্ষ্য করা গেছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের পরিবেশে উৎপাদিত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
স্থানীয়রা জানান, না জেনেই আমরা এসব মিষ্টি কিনে খাচ্ছি। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অভিযান, মনিটরিং বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইনের সঙ্গে গত তিনদিন ধরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল রিসিভ করেননি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে দেখা মেলেনি।

