
নিজস্ব প্রতিবেদক : কলেজ চলাকালিন সময়ে কোচিং চালানোর প্রতিবাদ করায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের এক শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় কোচিং এর পরিচালকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।ওই সময় অবিলম্বে তাকে গ্রেফতারসহ কোচিং বন্ধের দাবি জানানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার(৭মে) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে ।ওই সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারটি ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। এতে প্রায় একঘন্টা যাবত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, সজিব বলেছে সরকারি কলেজের শিক্ষকরা পড়াতে পারে না। অথচ সে নিজেই এখানে পড়েছে। স্যারের হাত ধরে শত শত শিক্ষার্থীরা পাশ করে বেরিয়েছে। শিক্ষকদের সাথে এমন আচরণের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা উচিত। একই সাথে কলেজ চলাকালিন সময়ে কোচিং বন্ধের দাবী জানান তারা।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাসেম বলেন, আমাদেরই কলেজের শিক্ষার্থী ছিল সজিব। সে কারণে কলেজের সামনে কোচিং চালালেও তাকে কিছু বলা হয় না। কিন্তু এক শিক্ষকের হুমকি দেওয়ার কারনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ- পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) সুশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, শিক্ষকদের সাথে এমন আচারণ কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। যে কারনে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কোচিং সেন্টারটি সীলগালা করা হয়েছে। কোচিং সেন্টার থেকে একটি হার্ড ডিস্ক এবং একটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষকরা একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে সজিব পালিয়ে যাওয়ার কারনে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে ডা: সজিব বায়োলজি নামের কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন ডা: সজিব। তিনি কলেজ চলাকালিন সময়ে কোচিং সেন্টারটি পরিচালনা করায় সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদের বিষয়টি অবগত হয়ে ডা: সজিব মোবাইল ফোনে শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে অশালীন আচরণ করেন। ওই কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার ওই ডা: সজিবের গ্রেফতার এবং কোচিং বন্ধের দাবিতে কোচিংসেন্টার, ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

