
#স্বর্ণ ব্যবসায়ী, মাদক কারবারী ও চোরাচালানী গডফাদারকে গ্রেফতার করতে হবে- আব্দুস সামাদ ।

সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার দাবী করে ব্যানার তৈরি করা হলেও তা সমাবেশে ব্যবাহার করা হয়নি সমঝোতার কারনে ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি শ্রমিক সংগঠনের উপদেষ্টার অনৈতিক হস্তক্ষেপের জেরে কয়েক’শ শ্রমিকের মধ্যে গণ অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।এ ঘটনার জেরে সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার দাবী করে রবিবার সাতক্ষীরা সদরে মাইকিং সহ জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে শহরের প্রাণকেন্দ্রে সমাবেশও হয়েছে। নারিকেলতলা ট্রাক ট্রাংক লরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদার সাতনদীকে জানান, প্রায় দু’ হাজার শ্রমিকদের নিয়ে আমরা কাজ করি। সংগঠনের উপদেষ্টা শেখ শফিউল্লাহ মনি আমার সহ কিছু সংখ্যক শ্রমিক নেতাকে বিভিন্ন সময়ে তার ব্যক্তিগত অবৈধ ব্যবসায়ীক কাজে ব্যবহার করতো। তার অনৈতিক কাজে সহায়তা দেয়া বন্ধ করা হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে কতিপয় শ্রমিককে ব্যবহার করে সংগঠনের অফিসে গত ঈদের দুই দিন আগে তালা মারে| এতে করে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে তৎকালীন পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসি উভয়পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা সহ শ্রমিক
ইউনিয়নের তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে| কিন্তু সংগঠনের অফিসে গেলেই বেদম মারপিট করা হয় মজনু সরদারকে। এর জেরে গত শনিবার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে প্রায় চার’শ শ্রমিক নিয়ে নারকেলতলা ইউনিয়ন অফিসে যায়। তারা নানা রকম স্লোগান দেয়| শ্রমিকরা মজনু সরদারের অবৈধ বহিষ্কার এর বিষয়ে জানতে চায়। তারা কোন সদউত্তর দিতে না পারায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অফিসে তারা মেয়ে দেয়| সংগঠনের সভাপতি তালার চাবি সদর থানার ওসির নিকট জমা দেয়| পরে ওসির নিকট থেকে চাবি নিয়ে অফিসের তালা খুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করে উপদেষ্টা শেখ শফিউল্লাহ মনি। এ খবর স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে পূণরায় গণঅসন্তোষ দেখা দেয়| সদর থানার ওসির কাছে থাকা চাবি উপদেষ্টা
শেখ শফিউল্লাহ মনির নিকট দেয়ার অভিযোগ এনে সদর থানার ওসিকে প্রত্যহার দাবী করে সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক দল| সকাল ১১টায় মাইকিংও হয়। মাইকিং এ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। মাইকিং এ ঘোষণা শুনে সদর থানার ওসি উপদেষ্টা শেখ শফিউল্লাহ মনির নিকট থেকে চাবি নিয়ে নেন। পূণরায় সংগঠনের অফিসে তালা মেরে দেয়া হয়। এর পর থানা পুলিশ ও জেলা শ্রমিক দলের মধ্যে সমঝোতা হয়। ফলে ওসির প্রত্যহার দাবী করে ঘোষনা দেয়া বিক্ষোভ মিছিল থেকে সরে এসে শুধুমাত্র প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। ওই সমাবেশ থেকে ওসিকে প্রত্যাহার দাবী করা হয়নি। জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে চারটায় শহরের সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি আব্দুস সামাদ। প্রতিবাদ সামবেশে বক্তব্য দেন জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও তালা থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মিলন| অনুষ্ঠানে মজনু সরদার সাংবাদিকদের কাছে উপদেষ্টা শেখ শফিউল্লাহ মনির বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ এনে ঘটনার বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উপদেষ্ট শেখ শফিউল্লাহ মনি আমি সহ কিছু সংখ্যক শ্রমিক নেতাকে বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহার করেন। আমরা তার অপকর্মের সহযোগী হতে অস্বীকার করলেই আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। বেআইনীভাবে আমাকে বহিষ্কার করে। সংগঠনের গঠনতন্ত্রে কোন উপদেষ্টার পদ না থাকলেও শেখ শফিউল্লাহ মনি সহ ৩ জন উপদেষ্টা ঘোষনা দিয়ে সংগঠনকে জিম্মি করে রেখেছে ফলে সাধারণ শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছে। শ্রমিক দল সভাপতি আব্দুস সামাদ তার বক্তব্যে সংগঠনের একজন উপদেষ্টাকে ইঙ্গিত করে বলেন, চোরাকারবারী, মাদককারবারী ও স্বর্ণ পাচারকারী গডফাদারদের গ্রেফতার করতে হবে। শ্রমিক অসন্তোষ বন্ধ করার জন্য সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দাবী জানান তিনি।

