
মোঃ ইশারাত আলী: শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গত দুই বছর ধরে লাপাত্তা থাকা বিতর্কিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘বুশরা গ্রুপ’-এর সাতক্ষীরা অফিসে অবশেষে হানা দিয়েছেন সর্বস্ব হারানো ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা রোডের মোড়ে সাতক্ষীরার বুশরা হাসপাতালসংলগ্ন প্রধান কার্যালয়ে অর্ধশতধিক নারী-পুরুষ গ্রাহক হানা দিলে সেখানে রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। চরম উত্তেজনার মুখে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বুশরা হাসপাতালের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন ওরপে ভাউচার মামুন। তবে সাধারণ মানুষের রক্ত-চোষা অর্থ লোপাটে সরাসরি জড়িত থাকা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম ও এমডি ইকবাল কবির পলাশের সাঙ্গপাঙ্গরা আটকা পড়ে যান জনতার রোষানলে।
উত্তাল পরিস্থিতির মুখে পড়ে ঘটনাস্থলেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষের আমানতের টাকা লুটপাটকারী বুশরা গ্রুপের একদল দুর্নীতিবাজ শাখা ম্যানেজার। জনতার ঘেরাওয়ের মুখে পড়া এই ম্যানেজারদের মধ্যে রয়েছেন-মো. ইয়াসিন, আবু জাফর, আসাদুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, হাসানানুজ্জামান রাজু এবং রফিকুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। এসময় শাখা ম্যানেজাররা গোপনে মিটিং করছিল বলে গ্রাহকরা জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাধারণ গ্রাহকদের তিল তিল জমানো কষ্টের পুঁজি ও আমানতের টাকা হাপিস করে এই ম্যানেজাররা আঙুলে কলাগাছ নন, বনে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক! গরিব মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে গ্রাহকদের টাকায় তারা এলাকায় গড়ে তুলেছেন একের পর এক আলিশান বাড়ি, কিনেছেন দামি গাড়ি ও বেনামে বহু সম্পত্তি। তাদের এই বিলাসবহুল জীবনযাপন এখন আগুনে ঘি ঢেলেছে।
সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড ও লোভনীয় উচ্চ মুনাফার ফাঁদ পেতে বুশরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখা বন্ধ থাকায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত হাজারো পরিবার আজ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই জমি বিক্রি, পেনশনের টাকা কিংবা জীবনের শেষ সম্বলটুকু এখানে জমা রেখে আজ পথে বসেছেন।এই লুটেরা চক্রের বিরুদ্ধে এর আগেই জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন কালিগঞ্জের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। স্মারকলিপিতে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম, এমডি ইকবাল কবির পলাশ ও পালিয়ে যাওয়া পরিচালক মামুনসহ দুর্নীতিবাজ ম্যানেজারদের সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অবিলম্বে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের দাবি জানানো হয়। গ্রাহকদের হানা দেওয়ার ঘটনায় পুরো সাতক্ষীরা জুড়ে হাজার হাজার আমানতকারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। অবিলম্বে পলাতক পরিচালক মামুনসহ মূল হোতা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম ও এমডি ইকবাল কবির পলাশকে গ্রেপ্তার এবং ম্যানেজারদের অবৈধ সম্পদ ক্রোক করে গ্রাহকদের সমুদয় অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সর্বস্বহারা মানুষগুলো।

