
কলারোয়া ব্যুরো: মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ আশ্রয়—অনেক অসহায় মানুষের কাছে যা কেবলই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবার। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় ও গৃহহীন মানুষের জন্য একের পর এক ঘর নির্মাণ করে তারা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রোববার পড়ন্ত বিকেলে উপজেলার ঝাঁপাঘাট গ্রামের শেখপাড়ায় নির্মিত একটি নতুন ঘর সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এ মানবিক উদ্যোগের বাস্তব চিত্র দেখা যায়।
নতুন ঘরের মালিক শেখ রবিউল ইসলাম(৫৫) ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগম(৪৫)। নিঃসন্তান এ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। রবিউল ইসলাম অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজের একটি ছোট্ট জমি থাকলেও সেখানে বসবাসের উপযোগী কোনো ঘর ছিল না। ফলে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যেই কাটছিল তাঁদের জীবন।
ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারের সহায়তায় সেই দুর্দশার অবসান হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে তাঁরা পেয়েছেন একটি নতুন পাকা ঘর। ঘরটির সঙ্গে রয়েছে প্রশস্ত বারান্দা, সংযুক্ত (অ্যাটাচড) টয়লেট এবং টিনের ছাউনিযুক্ত মজবুত নির্মাণশৈলী।
প্রায় ৫৫ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “চেয়ারম্যানের পরিবারের লোকজন আমার জন্য পুরো ঘরটি তৈরি করে দিয়েছেন। আমার একটি টাকাও খরচ হয়নি। এখন অন্তত নিশ্চিন্তে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই হয়েছে। আল্লাহ তাঁদের ভালো রাখুন।”
জানা গেছে, চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারের সদস্য ও শিল্পপতি ইমাম হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে হেলাতলা ইউনিয়নের দুস্থ ও গৃহহীন মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে একটি পারিবারিক গৃহনির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেই উদ্যোগের আওতায় ২০২৪ সালে ২টি, ২০২৫ সালে ৭টি এবং চলতি ২০২৬ সালে আরও ১০টি ঘরের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, যেসব মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই কিংবা আর্থিক অক্ষমতার কারণে ঘর নির্মাণ সম্ভব নয়, তাঁদের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। কোনো সরকারি অনুদান বা প্রকল্পের ওপর নির্ভর না করে একান্ত পারিবারিক উদ্যোগেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

