
মেহেদী হাসান:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন নিয়ে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে আর একটি বিপ্লবের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে।শনিবার সকালে খুলনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা গুলো বলেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের শক্তির কাছে কোনো অন্যায় শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত এলাকায় নানা ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুশইনের নামে অন্য দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠছে।
তিনি বলেন, সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীর সদস্যরা দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। তাদের পাশে দেশের জনগণও রয়েছে। আমরা কারও শান্তি নষ্ট করতে চাই না, আবার কেউ আমাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর আঘাত হানুক সেটাও মেনে নেব না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি। এসব সংকট উত্তরণে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বিভেদ নয়, বরং ঐক্যের রাজনীতি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. অলি আহমদ।তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, দেশের মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নতুন প্রজন্ম একটি বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখতে চায়। তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশের চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিহার করে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
নেতারা তাদের বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশস্থলে সকাল থেকেই বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

