
* জোনাব বাহিনীর সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড চেঙ্গু রবিউল বাংলাদেশ পারে অবস্থান করে, ওপারে থাকে জোনাব আলী ।
* কতিপয় বি এনপি নেতার শেল্টার পায় চেঙ্গু রবিউল, আছে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ।
নিজস্ব প্রতিবেদক:সুন্দরবনের ত্রাস জোনাব বাহিনীর সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড বি এনপি নেতা চেঙ্গু রবিউল দুই সহযোগি সহ কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হয়েছে । এসময় তাদের কাছ থেকে গোলাবারুদ ও একটি আধুনিক দো-নলা বন্ধুক উদ্ধার হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা হয়েছে। শেল্টারদাতা একটা চক্র চেঙ্গু রবিউলের অপরাধ হালাকা করার জন্য দিনভর তদবির চালিয়েছে। সুন্দরবন অঞ্চলে বনজীবিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে । কোস্ট গার্ড সুত্র, থানায় দায়ের হওয়া মামলা ও স্থানীয় সুত্রে জেনাব বাহিনীর বনজীবিদের সীমাহিন অত্যাচারের চিত্র উঠে এসেছে।
কোস্ট গার্ড সুত্র জানায় ,মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী কালিঞ্চি সুইচগেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন, আজিবর গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬)। সকলেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।পরবর্তীতে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে, রাত ১১ টায় শ্যামনগর থানাধীন হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করে মামলা করা হয়েছে ।
স্থানীয়রা জানায়, দুই যুগের ও অধিকাল ধরে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের জেনাব আলী আট থেকে দশ সদস্যের দস্যু বাহিনী নিয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেজ্ঞে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । সুন্দরবনে প্রবেশ করা জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপনের জন্য অপহরন করা এই বাহিনীর মূল লক্ষ । লোকলয়ের এই বাহিনীর আছে শেল্টারদাতা ও সোর্স । সাধারনত শাসক দলের বিপদগামী কিছু নেতার আশ্রয় প্রশ্রয় পেয়ে থাকে এই বাহিনী ।
এই বাহিনীর প্রধান জোনাব ভারতের বসিরহাট অঞ্চলে অবস্থান করে । সেখান থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করে । বাংলাদেশ পারে থাকে বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড কালিঞ্চি গ্রামের দাউদ গাজীর ছেলে চেঙ্গু রবিউল । জোনব আলী বৃদ্ধ হওয়ায় চেঙ্গু রবিউলই বাহিনী প্রধানের ভুমিকায় চলে গেছে ।মাস ছয়েক আগে ভারতের একটি দস্যু বাহিনীর কাছে দুটি বন্দুক সরবরাহের নামে সাত লক্ষ টাকা গ্রহন করে চেঙ্গু রবিউল। টাকা নিলেও অস্ত্র দেয়নি সে। দুটি অস্ত্রই জোনবা বাহিনীর হাতে ছিল। কয়েকমাস আগে একটি বন্দুক উদ্ধার হয় । দ্বিতীয় বন্দুকটি গতকাল উদ্ধার হল । জোনাব বাহিনী শ্যামনগর উপকূলীয় অঞ্চলের বনজীবিদের কাছে আতঙ্ক । এই দলের সদস্য বর্তমানে সাতজন। সাতজনের মধ্যে গ্রেপ্তার হল তিন জন । সুন্দরবনের কচুখালী খাল হোগোলডুরি খাল ,দাইয়ের খাল ,বৈকারী খাল ,মাইদাভাঙ্গা খাল ,নুচুখালী খাল ,পশুরতলা খাল ও হরিণটানা খাল অঞ্চলে দুই যুগের ও অধিকাল ধরে জোনাব বাহিনী দস্যুবৃত্তি করে আসছে । বহিনী প্রধান জোনাব ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড চেঙ্গু রবিউল কযেকবার মামলার শিকার হয়ে জেল হাজত খেটেছে ।বর্তমানে চেঙ্গু রবিউল ও কতিপয় বিএনপি নেতার শেল্টারে আছে । নিজ গ্রাম কালিঞ্চি ,ভেটখালী ,বংশিপুর ও শ্যামনগরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকলে চেঙ্গু রবিউল নেতৃত্ব দিয়ে জনবল তোলে । কিছু সুবিধা বাদী নেতা চেঙ্গু রবিউলকে শেল্টার দেয়। সে দস্যুবৃত্তির পাশাপাশি ভারত থেকে মাদক ও অস্ত্র এপার- ওপার করে। গতকাল দিনভর শেল্টার দাতা দুজন নেতাকে দৌড়ঝাপ করতে দেখা গেছে । এই বাহিনীর সদস্য ফারুক ও আজিবর । আজিবর চেঙ্গু রবিউলের নিকট আত্মীয় । কালিঞ্চি ভেটখালী হরিনগর ,মুন্সিগজ্ঞ অঞ্চলে জোনব বাহিনীর সোর্স আছে । এই সোর্সরা লোকালয় থেকে বাজার বেসাতী করে সুন্দরবনে বাহিনীর ট্রলারে পৌছে দেয় । মুক্তিপনের জন্য অপহরন করা ব্যাক্তিদের স্বজনদের নিকট থেকে দেনদরবার করে টাকা আদায় করে থাকে ।

