
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর এলাকায় এক ঘের ব্যবসায়ীর ঘেরে হামলা চালিয়ে মাছ লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ঘেরের কর্মচারী সোহরাব হোসেন ও সাদেক আলী ।হামলাকারীরা সকলে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সমর্থক বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার সাতক্ষীরা সদর থানায় এজাহার দ্বায়ের করা হলেও অদৃশ্যকারনে তা রের্কড হয়নি। ভুক্তভোগী শেখ রফিকুল ইসলাম রানা শহরের মিল বাজার এলাকার বাসিন্দা । তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত আমার সময় নামে একটি পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সুন্দরবন টাইমস্ এর সম্পাদক।
সাতনদীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ রফিকুল ইসলাম রানা সদর উপজেলার দোহাখোলা গ্রামের মাগফুর হাফেজের কাছ থেকে সাড়ে ৪বিঘা, এলাচর গ্রামের জামাল কামাল সালামের কাছ থেকে সাড়ে ৪ বিঘা ও চর বালিথা গ্রামের আমজাদ শেখের ১ বিঘা জমি লিজ ডিড নিয়ে ২০২২ সাল থেকে দীর্ঘ ৫ বৎসর মাছ চাষ করে আসছে । । বর্নিত ব্যাক্তিবর্গের নিকট থেকে এই ১০ বিঘা জমি লিজ ডিড নিয়ে ইতি পূর্বে অনুজু কমিশনার ও ইবাদুল মৎস চাষ করে আসছেন । রানার লিজ ডিডের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যান্ত থাকলেও তাকে জোর জবরদস্তি মূলকভাবে তাকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য এই মাছে লুটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে । এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও চিত্র সাতনদীর অনুসন্ধানী টিমের হাতে চলে এসেছে।
ভুক্তভোগী শেখ রফিকুল ইসলাম রানা অভিযোগ করেন,সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের এল্লারচর এলাকায় সরকারি মৎস্য প্রকল্পের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন তিনি । সুলতান পুর এলাকার মৃত খোকনের ছেলে ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জায়েদ (৩০) দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় সে। এই ঘটনার জেরে গত শুক্রবার( ১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জায়েদ ও নাইম হোসেন সহ অজ্ঞাতনামা ৩০–৪০ জন সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘেরে প্রবেশ করেন। ওই সময় তাঁরা জোরপূর্বক বেড় জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করেন।
এতে বাঁধা দিলে গেলে তারা মৎস ঘেরের কর্মচারী সোহরাব হোসেন (৩৮) ও সাদেক হোসেন (৫৫) লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে । ওই সময় পুলিশ দেখে ঘেরে মাছ নিয়ে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে সটকে পড়ে । এরপর আহত অবস্থায় ওই দুই ঘেরের কর্মচারীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।
রানা আরো অভিযোগ করেন , হামলাকারীরা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা পুনরায় চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে ।একই সাথে ছাত্রলীগ নেতা জায়েদের মা মহিলালীগ নেত্রী উল্টা পুলিশ দিয়ে তাকে হয়রানীর চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন, রবিউল ইসলাম বাবু ও আকরাম হোসেন বলেন, রানা ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিল । বেশকিছুদিন ধরে সুলতানপুর এলাকার জেলা মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশান আরা রুবি ও তার ছেলে জায়েদ চাঁদা দাবী করে আসছিল তার কাছে । চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ঘেরে হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করা আছে বলে জানান তারা ।
অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা মহিলালীগের সাংগনিক সম্পাদক রওশান আরা রুবি সাতনদীকে বলেন, রানার কাছে জমির মালিকরা হারির টাকা পাবে । জমির মালিকরা হারির টাকা না পেয়ে মৎস ঘেরে থেকে জাল টেনে মাছ ধরে নিয়েছে । মাছ লুটের অভিযোগ সত্য নয় ।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম সাতনদীকে বলেন , অভিযোগটি অপারেশান সুশান্ত ঘোষ তদন্ত করেছেন। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম রানার দেওয়া এজাহারটি আপাতত মামলা হিসাবে রের্কড হচ্ছেনা ।

