
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘির ঐতিহ্যবাহী কুমির অপসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম।
রবিবার বাগেরহাটে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘির কুমির বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করলেও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শত শত বছর ধরে মাজারের দিঘি ও কুমির দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। কুমিরটি শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতীক।
ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন চাইলে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পাহারা এবং সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কুমিরকে দিঘিতেই সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল। তিনি দাবি করেন, মাজার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পাহারাদার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণ, মাজার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের আবেগ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে কুমিরটিকে পুনরায় মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক এবং শতবর্ষী এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাজারের দিঘিতে এক শিশুকে কুমির টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে দিঘির কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

