
পাইকগাছা প্রতিবেদক : খুলনার পাইকগাছায় স্বত্ব দখলীয় জমি জবরদখল, মৎস্য লিজঘের থেকে মালামাল লুটপাট এবং মিথ্যা চুরি মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে পাইকগাছা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাইকগাছা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের গোপালপুরের বাসিন্দা মোঃ আঃ মজিদ গোলদার (বয়াতী)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মোড়ল, মোঃ ইউনুচ গোলদার ও মোঃ গণি আমিন গোলদার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আঃ মজিদ গোলদার জানান, পাইকগাছা পৌরসভার শিববাটী মৌজার সিএস খতিয়ান ৬, আরএস খতিয়ান ৩০ এবং এসএ খতিয়ান ৪৫-এর আওতায় থাকা ১৩.৫২ একর জমির মধ্যে ০৬.৭৬ একর জমি তারা বংশপরম্পরায় ভোগদখল করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক বিআরএস জরিপে (খতিয়ান নং ৯৮/১, ২৪১, ৩৪১ ও ১৩৬) অসাবধানতাবশত ভুলক্রমে অন্য লোকজনের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। ভুল রেকর্ড হলেও রেকর্ডধারীরা কখনও তাদের ভোগদখলে কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। উক্ত বিআরএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য খুলনার যুগ্ম জেলা জজ ৪র্থ আদালতে দুটি মামলা (মামলা নং দেঃ ১০৯/২৩ ও ৩৪/২৩) চলমান রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাঠ জরিপে ভুল রেকর্ডের সুযোগ নিয়ে গদাইপুরের মৃত ইউছুপ আলী সরদারের ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম কাজল ও তার সহযোগী মোছাঃ শাহানা সুলতানা সঙ্গীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মৎস্য লিজঘের জবরদখল করে নেন। জবরদখলকারীরা ঘেরের মালামাল ও মাছ লুটপাট করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শালিস-বৈঠকের চেষ্টা করা হলেও প্রতিপক্ষ তা অমান্য করে। পরবর্তীতে আইনের আশ্রয় নেওয়ার উদ্যোগ নিলে আমিনুল ইসলাম কাজল উল্টো তার সহযোগী শাহানা সুলতানাকে বাদী করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পাইকগাছা থানায় ৩৮০/৪১১ ধারায় একটি ষড়যন্তমূলক মিথ্যা চুরি মামলা (মামলা নং ১৪) দায়ের করেন। এই মিথ্যা মামলায় পুলিশ ইতিমধ্যে তাদের পক্ষের মোছাঃ কহিনুর বেগম ও আসাদুলকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে এবং অন্যান্যদের ওপর পুলিশি হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগীরা নিম্নোক্ত ৪ দফা দাবি জানান: ১. আমিনুল ইসলাম কাজল ও শাহানা সুলতানাসহ তাদের সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। ২. জবরদখল হওয়া স্বত্ব দখলীয় জমি, মৎস্য লিজঘের ও লুট হওয়া মালামাল ফেরত দেওয়া। ৩. নিরীহ লোকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা। ৪. নিজ জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

