
নিজস্ব প্রতিবেদক : কালিগঞ্জে বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে এক নেতাকে ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর, কুপিয়ে জখম, গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে কালিগঞ্জ থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএনপির কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার রতনপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনুচ আলী গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে এ এজাহার দায়ের করেছে।আহত রফিকুল ইসলাম বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর ভাই মো. শহিদুল ইসলাম থানায় এজাহারটি দাখিল করেন।
এজাহারে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন উপজেলার মহেশপুর গ্রামের শোকর আলীর ছেলে শেখ ফাহাদ হোসেন, কাশিশ্বরপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে খাইরুল আলম রানা, গনেশপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ আলী ও মহিউদ্দিন, মহেশকুড় গ্রামের হাশেম শাহাজীর ছেলে আব্দুর রহিম শাহাজী, রায়পুর গ্রামের গফফারের ছেলে মো. সোহাগ, গাজুলিয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আবু বক্কার গাইন, গণেশপুর গ্রামের কারো আব্দুলের ছেলে রব্বানী মোড়ল, শেখ সুরতের ছেলে শেখ আজগার আলী এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন-পরবর্তী সময় থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অন্যায়-অপকর্ম করে আসছিলেন বলে বাদীর অভিযোগ। তিনি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বললে অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন সময় মারধরের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে রতনপুর বাজারে বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের অস্থায়ী কার্যালয়ে বসে ছিলেন রফিকুল ইসলাম। এ সময় শেখ ফাহাদ হোসেনের নেতৃত্বে ও নির্দেশে অন্য অভিযুক্তরা দা, রামদা, ধারালো হাসুয়া, লোহার রড, হাতুড়ি, কাঠের চলা ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা রফিকুল ইসলামকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার পাশাপাশি কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বিএনপির নেতাদের ছবি ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা টেনে ছিঁড়ে পদদলিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা লোহার রড, হাতুড়ি, কাঠের চলা ও বাঁশের লাঠি দিয়ে রফিকুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও নীলাফোলা জখম হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলামের মাথায় কোপ দেওয়া হয়। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে কোপটি তাঁর কপালের ডান পাশে চোখের ওপর লাগে এবং গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ধারালো হাসুয়া দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর কাটা জখম হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করার সময় তা ঠেকাতে গিয়ে তাঁর বাম হাতের তর্জনীতে গুরুতর জখম ও হাড় ভেঙে যায়। প্রাণে বাঁচার জন্য রফিকুল ইসলাম হামলাকারীদের হাতে-পায়ে ধরলেও তারা তাঁকে লাথি ও মারধর করতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা কাঠের চলা ও বাঁশের লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তাঁর কোমর ও মেরুদণ্ডে গুরুতর জখম হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এ সময় তাঁর লুঙ্গির গাঁটে থাকা মোটা অংকের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা রফিকুল ইসলামের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন এবং পরে প্রকাশ্যে বিএনপির লোকজনকে এলাকা থেকে নির্মূল করে দেওয়া ও হত্যার হুমকি দেন।পরে স্থানীয় লোকজন আহত রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে ইজিবাইকে করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিনুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

