
=> অন্তসারশূণ্য রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবী প্রধান মন্ত্রীর কাছে
=> রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাইকোর্ট থেকে শম্পা গোস্বামীর জামিন লাভ
বিশেষ প্রতিবেদক: একই স্টোরী সব জায়গায় ঢোকায় শুধু নাম বদলায়। এদের প্রশিক্ষণ দরকার, কি ভাবে মামলা করতে হয়। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের একজন বিচারক এসব মন্তব্য করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় দু’মাসের আগাম জামিন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রেরণা এনজিওর নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী।
“প্রেরণা এনজিও শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা” শ্যামনগর থানার এস আই মোঃ রশিদুজ্জামান গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করেন। এজাহারের গর্ভে বলা হয় ১৮৬০ সালের পেনাল কোর্ড ১২৪-ক। অপরাধের ধরণ হলো: রাষ্ট্র বিরোধী উস্কানীমূলক বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্র্রোহীতা করার অপরাধ।
মামলাটি শ্যামনগর থানার ইন্সপেক্টর মোঃ পিয়ারউদ্দীন (০১৭২০-৪০৭৩১৩) তদন্ত করেছেন। এজাহারে বর্ণনা করা হয়, শম্পা গোস্বামী ভারতে পলাতক পতিত, ফ্যাসিষ্ট সরকারের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে বিভিন্ন সময় সরকার বিরোধী ও সরকার উৎখাতমূলক ষড়যন্ত্র করে থাকে। তিনি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন নেতৃত্ববর্গকে বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ যোগান দিয়ে বর্তমান বৈধ সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রসহ আন্দোলন বেগবান করার অবৈধ প্রয়াসে লিপ্ত আছেন। তার পরিচালিত বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তার মালিকানাধীন প্রেরণা এনজিও প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য সহ বর্তমান সরকারকে উৎখাতের নিমিত্তে বিভিন্ন রকম ঘৃণা, অবজ্ঞা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করে থাকেন। বিগত ২৪ সালের ৫ আগষ্ট গণঅভ্যূত্থানের পর দেশের বড় বড় সাবেক পতিত আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতারা ভারতে গিয়ে তাহার ছত্রছায়ায় অবস্থান করছেন। উপরোক্ত তথ্য সমূহ যাচাই করে প্রাথমিক ভাবে সত্যতা পাওয়া যায়। শম্পা গোস্বামীর উপরোক্ত রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় গত ১৪ আগষ্ট দুপুর ১২.০৫ ঘটিকায় শ্যামনগর উপজেলার ধানখালির প্রেরণা অফিসে অবস্থান করে সেখানে উপস্থিত জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার উস্কানিমূলক কথাবার্তা সহ বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘৃণা, অবজ্ঞা, বিদ্বেষ সৃষ্টি করিয়া ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ১২৪ এর ক ধারার অপরাধ করিয়াছেন। এজাহারের গর্ভে বলা অপরাধ সমূহ অনেকটা কাগুজে। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের কথা উল্লেখ নেই প্রযুক্তির এই যুগে। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কথা বলা হলেও এ ধরণের কোন রেকর্ড বা বক্তব্য গোয়েন্দাদের হাতে আছে কি? ফ্যাসিষ্ট সরকারের ভারতে পালিয়ে যাওয়া নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার কথা বলা হলেও তার কোন ডকুমেন্টস্ কি গোয়েন্দাদের হাতে আছে? শ্যামনগরের ধানখালির প্রেরণা অফিসে শম্পা গোস্বামীর উস্বানিমূলক সরকার উৎখাতের বক্তব্য কি অডিও কিম্বা ভিডিও রেকর্ড গোয়েন্দাদের হাতে আছে? আওয়ামীলীগের স্থানীয় এবং পলাতক নেতাদের সাথে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের প্রযুক্তিগত কি ডকুমেন্টস্ আছে গোয়েন্দাদের হাতে? এ সব প্রশ্ন ছুড়েছেন শম্পা গোস্বামী নিজেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। শম্পা গোস্বামীর দাবী ২৩ লাইনের এজাহারে ৯টি বানান ভুল। এই বানান ভুলই প্রমাণ করে এটি দায়সারা গোছের অন্তঃসার শুণ্য। বিশেষ একটি মহলের চাপে এই মামলা সৃজন করা হয়েছে। তিনি সুষ্টু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবী করেছেন।
প্রেরণা এনজিও’র প্রতিষ্ঠাতা শম্পা গোস্বামী অভিযোগ করে বলেছেন, একটি এনজিওর কর্তা ব্যক্তি অসুস্থ্য প্রতিযোগীতায় নেমে তার প্রতিষ্ঠান ও তার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান সহ ৫ আগষ্টের পর মব সন্ত্রাস করে তাকে জেল হাজতে পাঠাতে ভূমিকা রাখে। প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্তমান রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার কারিগর। অনলাইন-অফলাইনের কিছু সাংবাদিকদের অনৈতিক দাবী অগ্রাহ্য করায় তারাও মনগড়া খবর বানিয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রেরণা ও আমার বিরুদ্ধে। সরকারের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরণের ছোট খাটো বিষয় দেখবার সুযোগ সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের থাকে না। তবে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবী জানাচ্ছি।
গত বুধবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২ মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন পান শম্পা গোস্বামী। মামলা পরিচালনা করেন সংবিধান প্রণেতা দেশের শীর্ষ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন তনয়া এ্যাডভোকেট সারা হোসেন সহ ৩জন আইনজীবী।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রেরণা এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী। এ জেলার কালিগঞ্জের মহতপুর গ্রামে প্রেরণা এনজিও’র পথচলা শুরু। তিনি স্থানীয় মোজাহার মেমোরিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে তিনি কাজ করে চলেছেন।

