
#পৌরসভা থেকে পাশকরা প্লান এড়িয়ে পাঁচতলা ভবন নির্মান , কর্তৃপক্ষ নিরব
#প্রতিবেশীদের নামে ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করেছে আরিফা

হাবিবুর রহমান: পৌরসভা থেকে পাশ করা প্লান এড়িয়ে চারতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আরিফা খাতুনের বিরুদ্ধে। পাশ্ববর্তী জমির মালিকরা প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি শহরের কামালনগর বউবাজার এলাকার।
সরজমিনে জানা যায়, জামালনগর বউ বাজার এলাকার জনৈক আব্দুল আজিজ এর পুত্র কামরুজ্জামান আজাদের নিকট থেকে একটি দলিলে ৮.২৫ শতক জমি ক্রয় করে। উক্ত জমিতে ভবন নির্মাণ করার জন্য সাতক্ষীরা পৌরসভায় প্লান জমা দেয়া হয়। জমা দেয়া প্লান পাশও হয়ে গেছে। উক্ত প্লানে রাস্তার পাশ দিয়ে ৫ফুট এবং অন্যান্য পাশ দিয়ে ৩ ফুট চার ইঞ্চি জমি ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া আছে। কিন্তু ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আরিফা খাতুন পৌরসভার দেয়া নির্দেশনা না মেনে উল্টো রাস্তার পাশে ছাদ দেয়ার সময় ৫ ফুট রাস্তার মধ্যে প্রবেশ করে ছাদের সেনেটারী জানিয়েছে। পৌরসভার দেয়া নির্দেশনা অমান্য করে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করেন পাশ্ববর্তী জমির মালিক এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান।তিনি পাশ্ববর্তী জমির মালিক রফিকুল ইসলাম মন্টু, নাহিদ, মুকুল ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিফা খাতুনকে ফোন করেন। তাকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। ঘটনাস্থলে আসতে অপারগতা জানালে পৌরসভার নির্দেশনা মেনে ভবন নির্মাণের জন্য আরিফা খাতুনকে অনুরোধ করেন এ্যাডভোকেট আরিফা খাতুন। রাস্তার মধ্যে ৫ফুট ঢুকে ছাদের সেনেটারী খুলে ফেলারও অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু রাস্তার দিকে ঢুকে পড়া ৫ফুট ছাদের সেনেটারী খুলে না ফেলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার সময় এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান পার্শ্ববর্তী জমির মালিক রফিকুল ইসলাম মন্টু, মুকুল এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে আব্দুস সবুর, তপুর, কামরুল, কিরণ সহ ১০/১২ জনকে সাথে নিয়ে আরিফা খাতুনের নির্মাণাধীন ভবনের নিকট জান।
আজিজুর রহমান সহ অন্যান্যরা প্রত্যক্ষ করেন যে, আরিফা খাতুন পৌরসভার নির্দেশনা মোতাবেক রাস্তার ধার থেকে ৫ফুট জায়গা এবং অন্যান্য ৩পাশ থেকে ৩ফুট ৪ ইঞ্চি জায়গা না ছেড়ে ক্রয়কৃত সব জায়গায় তিনি ভবনের ভীত করেছেন। এছাড়াও তিনি অবৈধ ভাবে রাস্তার মধ্যে ৫ফুট প্রবেশ করে ছাদের সেনেটারী করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ।অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান আরিফা খাতুনকে ফোন করেন কিন্তু ফোনে সাড় দেননি তিনি।
তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে দাড়িয়ে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান উপস্থিত অন্যান্যদের জানান, অবৈধ সেনেটারী খুলে না নেওয়ায় আমি তা খুলে দিলাম।ওইদিন রাত সাড়ে দশটার দিকে আরিফা খাতুনের পাশ্ববর্তী ভবন মালিক রফিকুল ইসলাম মন্টুর বাড়ীতে হামলা চালায় আরিফা খাতুনের নেতৃত্বে তার ভাড়াটে বাহিনী। ওই সময় তার সাথে নিজ পুত্র-গালিব, ভগ্নিপতি চাঁদপুর কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন, সরাপপুরের মনিরুজ্জামান সহ অচেনা ১৫/২০ জন।তারা মন্টুর বাড়ীর গেট ভাঙ্গার চেষ্টা চালায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পরিবারের ভয়-ভীতিও দেখায়। এ ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর রফিকুল ইসলাম মন্টু সদর থানায় শরিফা খাতুন সহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
রফিকুল ইসলাম মন্টুর বাড়ীতে হামলার পর রাত ১১টার সময় স্থানীয় মহাসিন, আবুল হোসেন ও কামরুল আরিফা খাতুনকে বলেন, এ ভাবে বিরোধ না করে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বাবুকে নিয়ে শালিসে বসেন। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের মধ্যে মহাসিন ও আবুল উভয়ে উদ্যোগ নিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর দু’পক্ষকে নিয়ে কামালনগর বউ বাজারের রফিকুল ইসলাম মন্টুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাহমুদ এন্টারপ্রাইজে বসেন বিকাল সাড়ে পাঁচটায়। সেখানে উপস্থিত হন সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বাবু।
বসার পর কাউন্সিলর বাবু সবাইকে বলেন,চলেন আমরা সরজমিনে সমস্যা দেখি। সবাই শরীফা খাতুনের নির্মাণাধীন ভবনের সামনে রাস্তায় উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে দু’পক্ষের বিবাদের কারণ জানতে চান সাবেক কাউন্সিলর বাবু। এ সময় অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান জানান, আরিফা খাতুন পৌরসভার প্লানের বাইরে গিয়ে ভবন নির্মাণ করেছেন। তিনি রাস্তা থেকে ৫ফুট জমি ছাড়েনি। এছাড়াও ছাদের সেনেটারিং ৫ফুট ঢুকে গেছে রাস্তার মধ্যে। এ্যাডভোকেট আমিনুর রহমানের সাথে একমত পোষণ করে পাশ্ববর্তী জমির মালিক মুকুল, মন্টু সহ উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মতামত দেন।এরপর সাবেক কাউন্সিলর বাবু ভবন মালিক আরিফা খাতুনকে বলেন, আপনারা পৌরসভার থেকে পাশ করা প্লান অনুসরণ করছেন না। রাস্তা থেকে ৫ফুট জমি ছাড়া হয়নি উল্টো ছাদের সেনেটারি ৫ফুট রাস্তার মধ্যে ঢোকানো হয়েছে। ভবনের অপর ৩ পাশ দিয়েও জমি ছাড়া হয়নি। এগুলো সবই অনিয়ম হচ্ছে।
এরপর কাউন্সিলর বাবু সবাইকে বলেন, চলেন বউ বাজার গিয়ে বসে কথা বলি। এক পর্যায়ে আরিফা খাতুন উত্তেজিত হয়ে আক্তার হোসেন চঞ্চলের জামার কলার ধরে মারপিট শুরু করেন এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় রফিকুল ইসলাম মন্টুর শিশুপুত্র আরাফ মাহমুদ (১৩) সহ ৩ জন আহত হয়। আরিফা খাতুনের সাথে মারপিটে অংশ নেয় আরিফা খাতুনের ভগ্নিপতি ইকবাল হোসেন, ভাড়াটে শাহিনুর, আমিনুর রহমান ও ভাই মানিরুজ্জামান সহ ৭/৮ জন।

এদিকে ভবন নির্মাণ নিয়ে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের সাথে বিরোধের জের ধরে সাজানো ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন আরিফা খাতুন। আদালতে দাখিল করা ওই মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে সিআইডি বিভাগকে। ওই মামলার আসামী করা হয়েছে রফিকুল ইসলাম মন্টু, মহাসিন আলম, মুজিবর রহমান, আক্তার হোসেন চঞ্চল ও আব্দুস সবুরকে। এর মধ্যে রফিকুল ইসলাম মন্টুর দাবী, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভবন নির্মাণ নিয়ে আরিফা খাতুনের বিরোধ চলে আসছে। অন্যান্য আসামীরা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা দু’পক্ষের মধ্যে শাস্তি স্থাপনের কাজ করে আসছিলো। রফিকুল ইসলাম মন্টু আরিফা খাতুনের বিরুদ্ধে ১২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। সাধারন ডায়েরী করার ৩ দিন পর আরিফা খাতুন আদালতে মামলা ঠুকেছেন।
এদিকে পৌরসভা থেকে পাশ করা প্লান এড়িয়ে অবৈধভাবে ৫তলা ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী মাহমুদা খাতুন, কামরুনাহার নিলুফা ইয়াসমিন, খালেদা বেগম ও সাহিদা বেগম সাতক্ষীরা পৌরসভায় গত ১জুন ও ৭ সেপ্টেম্বর, পৌর প্রশাসক বরাবর আরিফা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি ।
এ ব্যাপারে আরিফা খাতুন ও তার স্বামী আমজিয়াকে একাধিক বার ফোন দিলে তারা ফোনটি রিসিভ করেননি ।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও আসাদুজ্জামানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, প্লানের বাইরে গিয়ে ভবন নির্মাণ করার সুযোগ নেই। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

