
শেখ আব্দুল হাকিম, শ্যামনগর থেকে: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্যার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অলিউল রহমানের বিরুদ্ধে।
এদিকে ডিলার নিয়োগের পরিপত্রে উল্লেখ আছে একই পরিবারের দুইজন আবেদন করতে পারবে না। অথচ সার ডিলার ২৫/২৬ নীতিমালাকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে শ্যামনগরে শামসুদ্দোহা টুটুল ও আবু এহিয়া মোর্তজা আপন দুই ভাই সার ডিলার লাইসেন্সের পাওয়ায় জনগণের ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। কৃষি মন্ত্রণালয় হতে প্রকাশিত তালিকায় শ্যামনগর উপজেলার জন্য নির্ধারিত ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে তাদের আপন দু’ভাইয়ের নাম থাকার তথ্য মিলেছে।
অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের দাপট, অন্যদিকে নগদ নারায়ণের দুষ্ট হয়ে কৃষি অফিসারের মাধ্যমে তদন্তের তালিকায় ১ নং এ নাম লিখে নিতে সক্ষম হয়েছিল তারা। যার ফলে একই পরিবার হতে দুথজনের ডিলারশীপ দেয়ার বিধি লংঘিত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরে আবেদন করেছিল পৌরবিএনপির সদস্য সচিব শামসুদ্দোহা টুটুল। অথচ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি কতৃপক্ষের উপর চাপ তৈরি করে নিজের আবেদনপত্র গ্রহনের পাশাপাশি সুপারিশক্রমে এক নম্বর ক্রমিকে নাম রাখতে বাধ্য করেছেন।
বিষয়টির তদন্তপুর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিও জানিয়েছে স্থানীয়রা। উল্লেখ্য মেসার্স ফাহাদ এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপাইটার শামুসদ্দোহা টুটুল এবং তার বড় ভাই আবু এহিয়া মর্তুজার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নাম ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ। অথচ বিএনপির অনেক নেতাকর্মী সব শর্ত পুরণ করেও শুধু অর্থ আর যোগাযোগের অভাবে বঞ্চিত হল।
সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন ভূরুলিয়া ইউনিয়ন আথলীগের সাধারণ সম্পাদক বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক এস এম ফয়সাল হাসানকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় স্থানীয় সহ উপজেলা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক ফয়সাল হাসান কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ভূরুলিয়া ইউনিয়ন আথলীগের সাধারণ সম্পাদক। ৫ আগস্টের পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপিথর এক নেতার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চাপ সৃষ্টি করে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলা বিএনপিথর সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আহবায়ক সোলাইমান কবির সহ কয়েকজন প্রশাসনকে চাপ সৃষ্টি করে তালিকা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন।
বিএনপির সোলেমান কবির বলেন, আমি কিছুই জানিনা।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিউর রহমান বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে এবং বিএনপিথর সুপারিশক্রমে নামের তালিকা জেলা কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। আমার একার সিদ্ধান্তে তালিকা তৈরী করা হয়নি তিনি জানান।
এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জামান কনক সাথে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেননি।

