
নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং এলাকার সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও সশস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রাকিব অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মো. এবাদুল ইসলাম।
সোমবার (৩১ আগস্ট) পাটকেলঘাটাস্থ নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। নগরঘাটাবাসী ও দেশবাসীর সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতেই এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এবাদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নগরঘাটা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও স্থানীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিজস্ব অর্থায়নে সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছেন। কিন্তু আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘ ঘনিয়ে আসায় তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট তিনি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে হাসপাতালে যাতায়াতের সুবিধার জন্য ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেন। ওই দিন বিকেলে ত্রিশমাইল বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অ্যাম্বুলেন্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তবে ওই রাতেই পোড়ারহাট এলাকায় রোগী বহনের কাজে যাওয়ার সময় নগরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মহব্বত হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অ্যাম্বুলেন্স ও উপস্থিত লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
উক্ত হামলায় এবাদুল ইসলাম নিজে, তাঁর ছেলে রাকিব আহমেদ, রাকিব অটো রাইস মিলের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সেলিম রেজা, জয় সরকার, মতিউর রহমান ও প্রবীর সরকারসহ মোট ৮ জন রক্তাক্ত আহত হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ঘটনার পর পাটকেলঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিগত দিনের বিভিন্ন সামাজিক অবদানের চিত্র তুলে ধরেন। করোনাকালীন সংকটে তিনি প্রায় ১৩০০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজ বিতরণ করেন। এছাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি মসজিদে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১০টি মসজিদে অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন সাধারণ মানুষকে নিজস্ব খরচে ওমরাহ হজে পাঠানোর যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার প্রথম পর্যায়ে আজ ৩১ আগস্ট দুইজনকে হজে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসন ও রাস্তাঘাট সংস্কারেও তিনি দীর্ঘদিন কাজ করছেন।
এসব উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে বিগত সরকারের সময় তৎকালীন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এবাদুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের কোনো কমিটির সাথে যুক্ত নন। একটি কুচক্রী মহল তাঁকে ‘ফ্যাসিবাদ’ তকমা দিয়ে এবং নোংরা পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থযোগানদাতা হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ জাতীয় মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবাদুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের সেবায় কাজ করতে গিয়ে যদি কোনো ব্যক্তিকে এভাবে ষড়যন্ত্র ও হামলার মুখোমুখি হতে হয়, তবে ভবিষ্যতে এলাকায় জনকল্যাণে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাবে না। তিনি এই অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত বিচার নগরঘাটা ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের ওপর অর্পণ করেন।

