
তালা প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার তালায় পুলিশের ওপর মব সৃষ্টির ঘটনায় মূল আসামিকে বাদ দিয়ে মামলা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান অভিযুক্ত নুর ইসলাম নুরুর নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় পুলিশের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, তালা উপজেলার হাজরাকাটি এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশের একটি দল স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারিদের তোপের মুখে পড়ে এবং অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে থানার ওসি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
গত ৫ অক্টোবর (রোববার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তালা থানা পুলিশের একটি দল হাজরাকাটি গ্রামে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করতে যায়। এ সময় এলাকার চিহৃতি মাদক ব্যবসায়ী হযরত কে আটক করার চেষ্টা করলে তার অপর সহযোগী নুর ইসলাম নূরের নেতৃত্বে মাদকচক্র পুলিশের ওপর মবসৃষ্টি করে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। মব সৃষ্টির ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তালা থানার ওসি অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন এবং ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেন। এসময় নুরু জনসম্মুখে পুলিশের ওপর আষ্বাফলন করে ঘটনা স্থল থেকে তড়িঘড়ি করে ছিটকে পড়ে।
ঘটনার দিন রাতে ৫ অক্টোবর রাতেই তালা থানার সাব ইন্সপেক্টর তপন কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে ১৪ জন এজাহারনামীয় এবং ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে তালা থানায় মামলা নথিভুক্ত করেন। মামলা রুজু হলেও পুলিশের ওপর হামলার মূল নেতৃত্বদানকারীর নুর ইসলাম নুরুর নাম এজাহারে না থাকায় তালা থানা পুলিশের ওসির ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুলিশের ওপর হামলা ও মব সৃষ্টি করে অবরুদ্ধ রাখার পুরো ঘটনার প্রকাশ্যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও চিহ্নিত মাদকাসক্ত নুর ইসলাম নুরু। কিন্তু পুলিশ বাদী হয়ে মামলা রেকর্ড করলেও সেই এজাহার থেকে মব সৃষ্টিকারীর প্রধানকে বাদ দেওয়ায় তালা থানার ওসি আবু বক্কার সিদ্দিকের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অংকের টাকার দফাদার মাধ্যমে তার নাম এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, নুরুর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে চাঁদাবাজি , হত্যা ,দখলদারিত্ব, সহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নুর ইসলাম নুরু নিজেই মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত এবং নিয়মিত গভীর রাত পর্যন্ত বাজারে পাহারা দিয়ে প্রশাসনের গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখে। এত বড় একটি ঘটনার মূল নায়ককে মামলার বাইরে রাখা মাদকবিরোধী অভিযানের সদিচ্ছাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
এ ঘটনায় তালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে পুলিশের তালা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় নুর যদি জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্তে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া অপরাধ প্রমাণ হলে চার্জশিটে নাম সংযুক্ত করা হবে।

