
#- জেলা প্রশাসকেব বক্তব্যের ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে মানববন্ধন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার, নোংরা ভাষায় আক্রমন
# জেলা প্রশাসককের বক্তব্যকে সমর্থন করে জেলা বিএনপির বিবৃতি
# বিএনপির অনুসারীরা জেলা প্রশাসককের বক্তব্যকে সর্মথন করে এক হাত নিয়েছে ধর্মান্ধদের
# মানবন্ধনকারীরা একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারী

বিশেষ প্রতিবেদক:ধর্মান্ধতাকে সতর্ক করে বক্তব্য দেওয়ায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের উপর হামলে পড়েছে ধর্মান্ধরা। একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারী গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বুধবার মানববন্ধন সহ অপপ্রচারে নেমেছে।এর আগে গত পরশু মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে জেলা প্রশাসক ধর্মান্ধদের বিষয়ে সতর্ককরে বক্তব্য দেওয়ার পর ধর্মান্ধরা মাঠে নেমেছে। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি জেলা প্রশাসকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিন্দা
প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অনুন্ধানে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, সাবেক সাংসদ ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সহ জেলা বিএনপি’র
নেতৃবৃন্দ| অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ধর্মান্ধদের বিষয়ে সতর্ক করে বক্তব্য দেন| ওই দিনই একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারী একটি
গণমাধ্যম ও কিছু সংখ্যক সোশ্যাল মিডিয়া হামলে পড়ে জেলা প্রশাসকের উপর|
হামলে পড়া সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে অন্যতমরা হলো মুরাদ তারা ফটোকার্ডে লিখেছে “ এবার ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলো সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ| এই আইডির কমেন্টবক্সে এসে দুষ্টু ˆসনিক নামের ফেসবুক আইডি থেকে বলা হয়েছে “ এর পুঙা এখনো ভালো আছে কিভাবে টেনে রাস্তায় আনা উচিত| এই আইডি থেকে অসংখ্য ধর্মান্ধরা নোংরা ভাষায় জেলা প্রশাসককে
আক্রমণ করেছে।
“ দৈনিক আলোর সন্ধান ” নিউজ পোর্টালের শিরোনাম করা হয়েছে সাতক্ষীরায় ধর্মান্থতা চলে এসেছে” ডিসির ঢালাও মন্তব্যে ক্রীড়া অঙ্গন ও সুশীল সমাজ তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি| এই পোর্টালে দীর্ঘ প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসকের দেওয়া বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার সংবাদ নামের একটি গ্রুপে দীর্ঘ খবর লেখা হয়েছে| শিরোনাম করা হয়েছে “ সাতক্ষীরায় ধর্মান্ধতা চলে এসেছে’
ডিসির ঢালাও মন্তব্যে ক্রীড়াঙ্গণ ও সুশীল সমাজে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি”।
ক্রাইমবার্তা ডটকম নিউজ পোর্টালের খবরের শিরোনাম করা হয়েছে“ সাতক্ষীরায় যে ধর্মান্ধতা চলে এসেছে-ডিসির মন্তব্যে জেলাজুড়ে
ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া”|
এছাড়া অসংখ্য ফেসবুক আইডি, গ্রুপ কিংবা নিউজ পোর্টাল থেকে ধর্মান্ধরা হামলে পড়েছে জেলা প্রশাসকের ওপর| তবে জেলা
বিএনপি’র পক্ষে সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ ডাবলু এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে সমর্থন করে তাকে সাধুবাদ
জানিয়েছেন|

প্রেস বিজ্ঞপ্তি হলো “ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু ¯সাক্ষরিত পত্রে
উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত
দুঃখজনক| জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে খাটো, হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে
ব্যবহার করেননি| বরং তিনি রাষ্ট্রের নীতি ও চেতনাকে ধারণ করে যুব সমাজে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড প্রসারের গুরুত্ব
তুলে ধরার প্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেছেন।
আরও বলা হয়, দুঃখজনকভাবে তার বক্তব্যকে আংশিক ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে|
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি মনে করে, কোনো বক্তব্যকে তার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য বিবেচনা না করে ভিন্নভাবে প্রচার করা
অনাকাংঙ্কিত এবং দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী| সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে|
পাশাপাশি বিএনপির কর্মী কিংবা অনুসারীদের মধ্যকার কিছু ব্যক্তিরা তাদের ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের সময়োপযোগী
বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে ধর্মান্ধদের সতর্ক করে নানাবিধ মন্তব্য করেছেন|

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—দৈনিক ইত্তেফাকেররাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদুর রহমান| তার আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে সমর্থন করে তার মতামত ব্যক্ত করেছেন| তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য হলো- সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের একটি বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যাচ্ছে| সাতক্ষীরা ক্রীড়া সংস্থার একটি সভায় ডিসি সমাজ থেকে ধর্মান্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন| এ বক্তব্যকে কোনোভাবেই ধর্মবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ| ধর্ম ও ধর্মান্ধতা এক বিষয় নয়| অথচ এই বক্তব্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামী মানববন্ধন করে নিজেদের দেউলিয়া প্রকাশ পেয়েছে|
ধর্মবিশ্বাস মানুষকে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা, সহনশীলতা, জ্ঞান অর্জন এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে শেখায়| একজন সচেতন
ধর্মবিশ্বাসী ব্যক্তি নিজের ধর্ম পালন করেন, অন্যের মত ও বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করেন এবং যুক্তি ও বিবেকের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন|
অন্যদিকে ধর্মান্ধতা এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি প্রশ্ন, যুক্তি ও ভিন্নমতকে শত্রু মনে করেন| ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা না বুঝে অন্ধ অনুসরণ, গুজব ও উসকানিতে প্রভাবিত হওয়া, অন্যের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো কিংবা সহিংস মনোভাবকে প্রশ্রয় দেওয়া-এসবই
ধর্মান্ধতার লক্ষণ|।

বিএনপি’র সদস্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা “ তথা কলারোয়ার সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম
হাবিবের কন্যা কানেতা ইয়া লাম লাম জেলা প্রশাসকের বক্তব্য সমর্থন করে লিখেছেন আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে সাতক্ষীরা জামাতের ৪ এম পি গিয়েছিল নতুন জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে? যাই হোক, জামাতের আরেক এম পি আমির হামজা সাতক্ষীরাকে জান্নাতী জেলা ঘোষণা দেওয়ার পর এবং গত নির্বাচনে শুধু জান্নাতের কার্ডকে প্রচারণার অংশ করে সফল হওয়ায় সারাদেশে
সাতক্ষীরার অসম্মান হয়েছে| জেলা প্রশাসক মহোদয় বোধ করি সেই ব্যাপার টাই এড্রেস করেছেন| আমি কোথাও ধর্ম বিদ্বেষ পাইনি|
অথচ যে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মোসাহেবি করতে উনারা ফুল নিয়ে গেছিলেন আজ উনাকেই হেনস্তা করতে উনারা দেখলাম প্রতিবাদ
করছে| উনাদের মতের সাথে না মিললে উনারা অপদস্ত করবেন আর নারী হলে তো কথাই নেই|
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন, সাতক্ষীরা জেলা এর উদ্যোগে বিকাল ৫টায় শহরের নিউ মার্কেট চত্ত্বরে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়| ওই মানববন্ধন থেকে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে গণবক্তব্য দেওয়া হয়| আলেম অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ওলামা মাশায়েখ পরিষদ সাতক্ষীরার সভাপতি মাওলানা ওসমান গণী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, মাওলানা রুস্তম আলী তাওহিদী, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা ফারুক হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ|
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাতনদীকে জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনের ইশতেহারে ধর্মান্ধতা, জঙ্গীবাদ এগুলোকে সরিয়ে দেওয়া
বা এগুলো নির্মূল করার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে| তারমধ্যে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করছি|
এটাই হচ্ছে মুল বিষয়| অনুষ্ঠানে আমার দেওয়া বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী রেকর্ড করেছে| পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য শুনলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে| আমার বক্তব্যকে খন্ডিত আকারে উপস্থাপন করে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

