
মৎস্য বিভাগের সাথে যোগসাজসে অবৈধ ভেনামী চিংড়ির ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে সৈয়দ নুর ও মো: হাসেম
ফেরদৌস আহমেদ : অনুমোদন বিহীন মেরি গোল্ড ও রাইসা চিংড়ি হ্যাচারী থেকে ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে । খুলনা ও সাতক্ষীরার চিংড়ি চাষীদের মধ্যে রুগ্ন ভোনামী চিংড়ি পোনা সরবরাহ করা হচ্ছে । মৎস্য কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে কক্সবাজারের শহীদ নূর ও হাসেম অবৈধ এ ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজারের মেরি গোল্ড ও রাইসা চিংড়ি হ্যাচারী থেকে রুগ্ন ভেনামী চিংড়ির পি এল বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে খুলনা জেলার পাইকগাছা ন্যাশনাল হ্যাচারিতে ট্রাকভর্তি করে আনা হচ্ছে ।সেখানে কয়েকদিন রাখার পর বিক্রয় যোগ্য হলে তা মাছচাষীদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে । গত এক সপ্তাহ ধরে পাইকগাছার ন্যাশাল হ্যাচারি থেকে রাত ২ টার সময় নির্দিষ্ট একটি পিকআপে ৬ থেকে৭ শত পলি ভেনামী চিংড়ি পোনা সাতক্ষীরার,আশাশুনি, কালিগজ্ঞ ,দেবহাটাও শ্যামনগরে নাসিং পয়েন্ট ও চিংড়ি পোনা ব্যাবসায়ীদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে । সেখান থেকে প্রান্তিক ভোনামী চিংড়ি চাষীরা ১১/১২শত টাকা দরে কিনে নিচ্ছে ।
পিকআপ যোগে আনা এসব চিংড়ি পোনা সাদা পলিতে আনা হচ্ছে ।পুরাতন বস্ক ভরে সাদা পলি বহন করা হচ্ছে ।এ ক্ষেত্রে পলি ব্যাগে কোন ব্রান্ডের নাম লেখা নেই । পাশাপাশি বিভিন্ন ব্রান্ডের বাগদা চিংড়ির হ্যাচারী যেমন,নিরিবিলির সিলমারা পুরাতন বস্ক ভরে ভেনামী চিংড়ি পোনার পলি বহন করা হচ্ছে । জাল জালিয়াতি করে শহীদ নূর ও হাসেম এ ব্যাবসা চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জেলা ও উপজেলার মৎস কর্মকর্তারা কোন আইনি ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা । বেআইনী এ ব্যাবসার বিরুদ্ধে মোবইল কোট করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের । তারও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন ।
এ ব্যাপারে পাইকগাছার মৎস কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাতনদীকে জানান, আমরা ইতিপূর্বে পাইকগাছার ন্যাশনাল হ্যাচারীতে অভিযান চালিয়েছিলাম । আমাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। তবে জনবল সংকট রয়েছে ।গভীর রাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব নয় । যেখানে উৎপাদন হচ্ছে অর্থাৎ কক্সবাজারের হ্যাচারী গুলোতে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া দরকার ।
সাতক্ষীরার আশাশুনি , দেবহাটা, কালিগজ্ঞ ও শ্যামনগর উপজেলাতে ভেনামী চিংড়ি চাষীদের মধ্যে রুগ্ন ভোনামী পোনা সরবরাহ করা হচ্ছে । এর মধ্যে শ্যামনগরের বংশিপুরের জামান , রহিম , রেজা ও শামসের এর নাসিং পয়েন্টে ভেনামী চিংড়ী পোনা বাজার জাত করা হচ্ছে । পাশাপাশি বংশিপুরের কাদের হাজীর সাথী এন্টারপ্রাইজ আবুল হোসেনের আসমা ফিস ও মোস্তফার আল-আমিন ফিস অবৈধ এই ভেনামী চিংড়ি পোনা বাজার জাত করে তা চিংড়ি চাষিদের মধ্যে সরবরাহ করছে । পাইকগাছার ন্যাশনাল হ্যাচারি থেকে গত এক সপ্তাহ ধরে ড্রাইভার জহির (০১৭১৯-২৬৫৯১৪৫)পিকআপ যোগে অবৈধ এই চিংড়ি পোনা বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করছে।
মৎস্য বিভাগের সাথে যোগসাযোশে করে একটি চক্র অবৈধভাবে ভোনামী চিংড়ি পোনার ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে । ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভোনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনুমতি পাওয়া ৬ টি হ্যাচারি ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজারের দুটি বাগদা পোনা উৎপাদনের হ্যাচারি ভাড়া নিয়ে ভেনামী চিংড়িপোনা উৎপাদন করে চোরাইভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভেনামী উৎপাদনের লাইসেন্স প্রাপ্ত হ্যাচারির মালিকরা। বিগতদিনে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা পাইকগাছার ন্যাশনাল হ্যাচারী পয়েন্টে অবৈধ ভেনামী চিংড়ীপোনা উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছিল। অভিযান চালানোর পরদিন থেকে ভোর সাড়ে ৫ টায় ট্রাক ভর্তি ৭শ বক্স ভেনামী চিংড়ির পিএল ন্যাশনাল হ্যাচারিতে ঢোকানো হয়েছে । উপর মহলের নির্দেশে ন্যাশনাল হ্যাচারিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছিল ।
মোবাইল কোট পরিচালনার পূর্বেই ভোর সকালে ৬শ বক্স ভেনামী চিংড়ি পিএল শ্যামনগরের বংশিপুর সহ কালিগজ্ঞ ও দেবহাটা উপজেলার চিংড়ি পোনা ব্যাবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় । প্রশ্ন উঠেছে অভিযান পরিচালনার পূর্বেই খবর জেনে যায় ন্যাশনাল হ্যাচারির মালিক শাহিন । আবার পরের দিন নতুন করে ৭শ বক্স ভেনামীর পিএল ঢোকানোর ঘটনা প্রমান করে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই মেরিগোল্ড ও রাইসা হ্যাচারী ভাড়া নিয়ে চোরাই ভাবে ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদন করছে সৈয়দ নুর ও মো: হাসেম। নিরিবিলি ফিসারিজ ও মেরিগোল্ড এর বক্সে পিএল আনা হয়েছিল।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে হারিনা চিংড়ির মত দেখতে ভেনামী চিংড়ি চাষ কৃষকদের আকৃষ্ট করেছে যা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকও বটে। ফলে বাগদা পোনার পাশাপাশি ভেনামী চিংড়ি পোনার চাহিদা বেড়েছে। লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে কক্সবাজারের নিরিবিলি হ্যাচারী একমাত্র ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদন করছে । সরকারি ভাবে ৬টি হ্যাচারি ভেনামি চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনুমতি পেয়েছে।
সাতক্ষীরার ১৩৮ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও দেবহাটা সীমান্ত পেরিয়ে ওপার থেকে দেদারছে ভেনামী চিংড়ির ও বাগদা চিংড়ির নপলি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এ সব নপলি সাতক্ষীরায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা কিছু হ্যাচারিতে প্রবেশ করছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের বাগদা চিংড়ি উৎপাদনের হ্যাচারী মেরীগোল্ড ও রাইসা ভাড়া নিয়ে ঢাকাস্থ একজন অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বিপুল পরিমাণ ভেনামী চিংড়িপোনা উৎপাদন করছেন। উৎপাদিত এই চিংড়ি পোনা মানসম্পন্ন নয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষিরা। এই চিংড়িপোনা পাইকগাছার ন্যাশনাল হ্যাচারিতে এনে শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরার কিছু কিছু নার্সিং পয়েন্টেও ভেনামীর পোনা সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, মেরিগোল্ড ও রাইসা হ্যাচারির সয়েদ নুর ও মোঃ হাসেম ভাড়া নিয়ে ভেনামী চিংডি় পোনা উৎপাদন করে আসছে ২০২৫ সাল থেকে। অভিযোগ আছে যে, মৎস্য অধিদপ্তর বারবার অভিযান পরিচালনা করার পরেও কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে তাদের এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না । আরো অভিযোগ আছে যে, কক্সবাজারস্থ হ্যাচারি থেকে অবৈধ ভেনামি চিংডি় ব্রুড থেকে নফলি সংগ্রহ করে আসছে। দুটি হ্যাচারির এই অপকর্মের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের কালো তালিকাভুক্ত আছে। প্রান্তিক চাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হ্যাচারি গুলো কালো তালিকাভুক্ত করে লাইসেন্স বাতিল করার জান্য দাবি জানিছে চিংড়ি চাষিরা।
বিগতদিনে খুলনা জেলার পাইকগাছার ন্যাশনাল হ্যাচারী থেকে ৭শ বক্স সাদা পলিতে ভেনামী চিংড়ি পোনা শ্যামনগরের বংশীপুরে চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ীদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল ভোর সকালে। এ ভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা চোরাইভাবে ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছে চোরাই ভাবে। এতে করে ভেনামী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ীক ভাবে মার খাচ্ছে| এ ব্যাপারে সাতনদীর অনুসন্ধানে জানা গেছে গত বছর অবৈধভাবে উৎপাদন করা ভেনামী চিংড়ি পোনা সাতক্ষীরা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি শুরু হয়| বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এই ব্যবসায়ীরা রাতারাতি সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যায়।অবৈধ ভেনামী পোনা বাজারজাত করা পাইকগাছার ন্যাশনাল চিংড়ি হ্যাচারির মালিক শাহিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ভেনামী চিংড়িপোনা বাজারজাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিগত সময়ে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধ ভেনামী চিংড়ি পোনার খোঁজে তার হ্যাচারিতে অভিযান চালিয়েছিল বলে স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে মেরিগোল্ড হ্যাচারির ম্যানেজার সানাউল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই।
অপরদিকে ভেনামী চিংড়ি পোনা উৎপাদনকারী নিরিবিলি হ্যাচারির জেনারেল ম্যানেজার সুজন অভিযোগ করে বলেন,নিরিবিলি হ্যাচারি সহ প্রায়৬ টি হ্যাচারি ভেনামি চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনুমতি পায়। নিরিবিলি হ্যাচারি ভেনামি পোনা উৎপাদনে যায় ২০২৪ সাল থেকে। চাষের সীমাবদ্ধতা থাকায় অনুমোদিত অন্যান্য হ্যাচারি গুলো এখনো পর্যন্ত উৎপাদনে যায়নি। এক্ষেত্রে নিরিবিলি হ্যাচারি উৎপাদন গিয়েও অবৈধ পোনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে । এই অবস্থায়মৎস্য অধিদপ্তর অবৈধ ভেনামি চিংড়ি পোনা উৎপাদন বন্ধ না করলে আর কোন ˆবধ হ্যাচারি উৎপাদন আসবে কিনা সন্দেহ আছে।

