
মোঃ ইশারাত আলী: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। অধ্যক্ষ হুমায়ূন আহম্মেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিতে এখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। তার যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রে ধারাবাহিক শিক্ষক বদলির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ উগড়ে দেন। তারা অধ্যক্ষ হুমায়ূন আহম্মেদকে অবিলম্বে প্রতিষ্ঠান থেকে অপসারণের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে অধ্যক্ষ তার পছন্দের বাইরের দক্ষ শিক্ষকদের কৌশলে বদলি করাচ্ছেন, যা শিক্ষা কার্যক্রমকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক আদেশে ইন্সট্রাক্টর (বাংলা) মো. জিয়াউর রহমানকে সুনামগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। এর আগে ইন্সট্রাক্টর (ইংরেজী) প্রীতি সুন্দর বিশ্বাসকেও একইভাবে বদলি করা হয়। মোখলেছুর রহমান, ফয়সাল হোসেন, সামি ও মিমসহ কয়েকশত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষকে অপসারণ করা না হবে, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে।
তবে ঘটনার কেন্দ্রে থাকা অধ্যক্ষ হুমায়ূন আহম্মেদ বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শিমুল হোসেনের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, “বদলি অধিদপ্তরের নিজস্ব বিষয়, এখানে আমাদের কিছু করার নেই।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, বিগত ৩ মাস ধরে অধ্যক্ষের সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

