
মেহেদী হাসান, খুলনা থেকে: গাছের ডালে ঝুলছে টুকটুকে দুটি আপেল। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, গাছটিতে সত্যিই ফলেছে বিদেশি এই ফল। সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দৃশ্যটি চোখে পড়তেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারীরা। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ আবার কৌতূহল নিয়ে দেখছেন গাছটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর আপেল গাছটি দেখতে সেখানে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কিন্তু খুলনার মাটিতে সত্যিই কি ধরেছে আপেল? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য? এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্যের দেখা মিলেছে খুলনা নগরীর গল্লামারী এলাকায়। গত ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি লাগানো হয় নানা জাতের ফল ও ফুলের গাছ। এর মধ্যে একটি আপেল গাছ লাগানো হয় গল্লামারী এলাকায়। গাছটির সামনে স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিনের দোকান। তাঁর হাত ধরেই গাছটি হয়ে উঠেছে পথচারীদের বাড়তি আকর্ষণ। ৮০ বছর বয়সী কালিদাসী রায় এসেছেন নগরীর আমতলা থেকে। আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মানুষের ভিড় দেখে তিনিও থেমে যান। তাঁর কাছে দৃশ্যটি একেবারেই নতুন। গল্লামারী এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু হুরায়রা ফেসবুকে ছবি দেখে ছুটে এসেছে গাছটি দেখতে। শুধু দেখেই ফেরেনি, নিজেও ছবি তুলে রেখেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের জন্য। একইভাবে পথচারী আতাউর রহমান ফকির বাড়িতে সন্তানদের দেখাতে ছবি তুলেছেন। গৃহবধূ প্রিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দা রেক্সোনার কাছেও বিষয়টি ছিল ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। তবে গাছটিতে প্রাকৃতিকভাবে আপেল ধরেনি। গাছের ডালে ঝুলে থাকা আপেল দুটি আসলে সুতা দিয়ে বেঁধে রাখা। আর এই অভিনব কাজটির পেছনে রয়েছেন স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফুটপাত পরিষ্কার করার পর সেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ লাগানো হয়। তাঁর দোকানের সামনেই লাগানো হয় আপেল গাছটি। ফলের ব্যবসায়ী হওয়ায় শখ করেই দুটি আপেল সুতা দিয়ে গাছের ডালে বেঁধে দেন তিনি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছেই আপেল ধরেছে। কিন্তু তাঁর এই ছোট্ট উদ্যোগ যে এত মানুষের কৌতূহলের কারণ হয়ে উঠবে, তা ভাবেননি। মিনহাজ উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার পর শনিবার থেকেই শত শত মানুষ গাছটি দেখতে আসতে শুরু করেন। মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের এমন আগ্রহ দেখে তিনিও অবাক। স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী জুয়েল জানান, গাছটিতে আপেল ঝুলিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানোর ভাবনাটি তাঁরও মাথায় এসেছিল। প্রথমে ঝোলানো দুটি আপেল চুরি হয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, মানুষ যেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আপেল দুটিও রক্ষা করেন। খুলনা সিটি করপোরেশনের স্টেট অফিসার সালাউদ্দিনও গাছটির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, গাছের ফল না থাকায় সৌন্দর্য বাড়াতে সুতা দিয়ে আপেল ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ থেকে জন্ম নেওয়া ছোট্ট এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে। আপেল গাছে ফল না ধরলেও সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুটি আপেলই সৃষ্টি করেছে নতুন কৌতূহল। কারও কাছে এটি বিস্ময়, কারও কাছে আনন্দের উপলক্ষ, আবার কারও কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করার মতো এক মজার অভিজ্ঞতা। গল্লামারীর এই আপেল গাছ যেন দেখিয়ে দিচ্ছে, নগরীর পরিচিত পথেও ছোট্ট একটি অভিনব উদ্যোগ তৈরি করতে পারে নতুন গল্প।

