# প্রায়ই দিনই মিতালীর ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়
ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে
#মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীরা উদ্বিগ্ন
মিতা চৌধুরী :প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় কথিত সাংবাদিক মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকি মিতালী (ছদ্দনাম) নামের একজন নারীর চরিত্র হননকরে গনমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে। আক্রান্ত নারীর স্বজনদের আতঙ্কগ্রস্থ করে প্রায় দু’লক্ষ টাকা চাঁদাবাজীও করেছে প্রেম প্রস্তাবকারী ওই প্রতারক যুবক মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকি ও তার এক সহযোগী। ঘটনাটি মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদেরও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার দক্ষিণের কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের চেয়ারম্যান কন্যা মিতালীকে কথিত সাংবাদিক রায়হান সিদ্দিকি
প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রেম প্রস্তাব প্রাপক মিতালী প্রায় মধ্য বয়সী। ১৭ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তানের জননী তিনি। আছে তার সাজানো- গোছানো স্বামী-সংসারও। পেশায় ওই মিতালী একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। অন্তত চারটি স্থানে তিনি কাজ করেছেন। চলায়-বলায় স্মার্ট ওই নারী রায়হান সিদ্দিকির প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। এরপর শুরু হয় পাগলামি। একাধিক দিন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নারীর টেবিলের সামনে থাকা চেয়ার কিম্বা বেঞ্চে ধ্যানে বসা শুরু করে রায়হান সিদ্দিকি। ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে একাধিকবার কর্মস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন ওই সরকারি চাকুরে। বিপদ গ্রস্থ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ঘটনাটি তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেন। প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখাত হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে রায়হান সিদ্দিকি। সে শহরের অন্তত ১৫ জন গণমাধ্যম কর্মীর কাছে ওই ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মনগড়া দুর্ণীতির খবর ছড়িয়ে দেয়। ওই খবরের মধ্যে নিজেকে ভূমি সহকারী কমকর্তার প্রেমিক হিসাবে উপস্থাপনও করে রায়হান সিদ্দিকি। পাশাপাশি ভূমি অফিসের একজন কর্মকর্তার সঙ্গেও ওই ভূমি সহকারী নারীর অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করা হয়। আক্রোষমূলক কুরুচিপূর্ণ এই খবর নিউজপোর্টালে, প্রিন্টিং মিডিয়া সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে
দেয়া হয়। গণমাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে রায়হান সিদ্দিকি নানামুখি কুট কৌশল নেয়। তার সমবয়সীদের কাছে দাবী করে ভূমি সহকারী
ওই নারীর সাথে তার দীর্ঘ প্রেম। দীর্ঘ ইয়ে…আছে আরকি। এভাবে কান্নাকাটির অভিনয় করে কিছু গণমাধ্যম কর্মীর সহযোগীতা পায় সে। ফলে বেশ কিছু গণমাধ্যমে তার তৈরি করে দেয়া কুরুচিপূর্ণ অন্তঃসারশূণ্য খবরটি প্রকাশ পায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তত ১৫ জন গণমাধ্যমকর্মী সদর এসিল্যান্ডের অফিসে গিয়ে অপেশাদার আচরণ শুরু করে। তারা দাবী করেন মহা দুর্ণীতিবাজ ভূমি সহকারী ওই নারীকে কেন অমুক জায়গায় বদলি করা
হলো? তার বিরুদ্ধে কেন পাহাড়সম শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো না? সরকারি চাকুরে মিতালীকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ খবর তৈরির বিষয়ে দফায় দফায় জানতে চাওয়া হয় রায়হান সিদ্দিকির কাছে। তার কাছে একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলা হয়, কারও সাথে জোর পূর্বক রিলেশন গড়া যায় কি? সাংবাদিকতার নিয়ম-কানুন তিনি মনবেন কি না? আক্রোশ মূলক ভাবে একজন নারীর চরিত্র হনন কি সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে? কোন প্রকার যুক্তিতর্কে না এসে রায়হান সিদ্দিকি “ গড় গড় করে বলা শুরু করল-ওর (মিতালী) সাথে আমার গভীর সম্পর্ক। সে এখন সব অস্বীকার করছে। আমার কাছে তার এই আছে, সেই আছে, ডকুমেন্ট আছে। তবে দফায় দফায় রায়হান সিদ্দিকির কাছে দাবী করা তার ডকুমেন্টেস চাইলেও এই প্রতিবেদকের কাছে তা সরবরাহ করেনি।
আর এক খবরের মধ্যে বলা হলো ভূমি সহকারী নারী মিতালীর সাথে তার বসের অনৈতিক সম্পর্ক আছে। এসব কুরুচিপূর্ণ খবর দেখে মূল ধারার
গণমাধ্যমকর্মীরা বিস্মিত হয়ও বটে।
এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী সরকারি চাকুরে মিতালী সাতনদীকে জানান, তার নিজের উপজেলার বাসিন্দা পরিচয় দানকারী রায়হান সিদ্দিকি নামের এক যুবক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমার অফিসে আসতো। কখনও কোন তদ্বির নিয়ে কখনও বা কোন কাজ ছাড়াই। তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে
আমি এড়িয়ে চলা শুরু করি। এতে করে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু করে। সেও তার সঙ্গী সুমন নামের আমার পরিবারের এক সদস্যকে জিম্মি করে চাঁদাবাজিও করেছে। রায়হান সিদ্দিকি আমার বিরুদ্ধে মনগড়া কুরুচিপূর্ণ অন্তঃসারশূণ্য খবর তৈরি করে তা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। দেয়ালে পিট লেগে গেলে আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। সদর এসিল্যান্ড অফিসের অধীনে কর্মরত মিতালীকে নিয়ে গণমাধ্যমে অব্যাহত কুরুচিপূর্ণ মনগড়া অন্তঃসারশুণ্য খবর প্রকাশের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই প্রতিবেদককে জানান, অন্তত ১৫ জন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার কাছে গেছেন। তারা জানতে চেয়েছেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া
হয়েছে? তাকে কেন নিকটবর্তী জায়গায় বদলি করা হলো? তিনি দাবী করেন আগন্তুকদের মধ্যে মূল ধারার গণমাধ্যমকর্মী অতি কমই ছিল। তিনি যুক্ত
করে বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নজরে রেখেছে। এই সব প্রপাগন্ডা চলার মধ্যে মিতালীর বিরুদ্ধে রায়হান সিদ্দিকির মনগড়া পৃথক দুটি খবর রায়হান সিদ্দিকির নিজস্ব ইমেইল থেকে দৈনিক সাতনদীর ই-মেইলে দেয়া হয় গত ৫ ও ৮ আগষ্ট তারিখে। কুরুচিপূর্ণ এই খবরটি সম্পাদকের নজরে আসলে তিনি সাতনদীর অনুসন্ধানী টিমের দায়িত্ব দেন ঘটনার আদ্যোপান্ত খুজে বের করার। অনুসন্ধ্যানী টিমের চোখে ধরা পড়া লম্বা খবরের এক চিলতে তথ্য ধরা হলো প্রথম পর্বে। চলবে…