
#বেড়ীবাঁধের ২০ স্থানে ভাঙ্গন আতংকে ৩০ গ্রামের মানুষ
#পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগসাজসে চলছে বালু লুট

হাবিবুর রহমান ,শ্যামনগর থেকে ফিরে:সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে আসা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার লোকালয়ে ঢুকে পড়া খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদী দুটি এখন বি এনপি – জামায়াতের বালু লুটকারীদের দখলে ।প্রশাসনের সাথে যোগসাজসে বালু লুট করা হচ্ছে দিন-রাত । বালূ উত্তোলনের ফলে উপকুল জুড়ে বেড়িবাঁধে ফাটল ধরেছে ।
সরেজমিনে গেলে সুন্দরবন উপকূলের জনপদের সাথে সম্পৃক্তনদীগুলো থেকে বিএনপি- জামায়াতের নেতাদের নেতৃত্বে বালু উত্তোলনের চিত্র দেখা যায়। নিয়মিত দিনরাত বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চিহ্নিত একটি মহল।বালু উত্তোলনের কারণে আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার নদীর পাড়ের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ ভাঙন আতংকে দিন কাটাচ্ছে।ইতিমধ্যে পাউবোর বেড়ীবাঁধের প্রায় ত্রিশ জায়গায় ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে।এছাড়া গাবুরা ইউনিয়নে ১ হাজার ২০ কোটি টাকার মেঘা প্রকল্প হুমকির মধ্যে পড়েছে। গ্রাম রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন নদীগুলোতে থেকে যে ভাবে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সে কারনে যে কোন সময় মেঘা প্রকল্পের বেড়ীবাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ করেছে ওই এলাকার বাসিন্দরা। এখনই যদি বালুখোরদের থামানো না যায় তাহলে ৭ ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে , শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক হাবিবুল্লাহ, যুবদল নেতা আবু মুছা, রনি, জনি সহ জামাত নেতা মুজিবুর রহমান, বেলাল হোসেন ও বাসার মেম্বরের নেতৃত্বে চলছে বালি উত্তোলন ।নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি বলেন,যুবদলনেতা হাবিবুল্লাহ একক নিয়ন্ত্রন নিয়ে প্রসাশন সহ সকল কে ম্যানেজ করে এ বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সাতক্ষীরা জেলার প্রায় চার টি উপজেলার পানি নিস্কাশনের খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীর বেড়ীবাঁধ ছুয়ে গড়ে উঠেছে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন,পদ্ধপুকুর ইউনিয়ন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন, কাশিমাড়ী ইউনিয়ন, আটুলিয়া ইউনিয়ন, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন, কৈখালী ও রমজানগর ইউনিয়ন সহ আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ও প্রতাবনগর ইউনিয়ন। শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেকী বাজার সংলগ্ন ঝাপা , ঝাপার চর , দূর্গাবাটি অঞ্চলে এবং কাশিমারি অঞ্চলের ঘোলা ত্রিমোহিনীর বিস্তর এলাকা জুড়ে খোলপেটুয়া নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে । একইভাবে গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দ রশি , লক্ষিখালী , চাঁদণীমুখা সহ বদ্বীপ গাবুরার মেগা প্রকল্পের বেড়িবাঁধ অঞ্চলে ড্রেজার দিযে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একইভাবে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও আনুলিয়ার ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । বালু উত্তোলন কারীরা স্থানীয় বি এনপি ও জামায়াতের নামধারী নেতা । তবে পেছনে আছে প্রভাবশালী নেতারাও । স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও পানিউন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে দিন-রাত বালু লুট চলছে ।
গাবুরা ইউনিয়নের বিএনপি নেতা জামান হোসেন বলেন,একদিকে সরকারী ভাবে বেড়ীবাঁধ রক্ষায় মেঘা প্রকল্পের কাজ চলছে অন্য দিকে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছে একটি সেন্ডিগেট চক্র।এভাবে যদি বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকে তাহলে মেঘা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
পদ্ধপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় চারিপাশে খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদী দ্বারা বেষ্ঠিত। প্রায় ৭ থেকে ৮টি স্থানে গ্রাম রক্ষা বেড়ীবাঁধে ব্যাপক ফাটল ধরেছে। যেকোন সময় বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ও জামায়াতের নাম ভাঙিয়ে একটি সেন্ডিগেট মহল প্রসাশন কে ম্যানেজ করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করছে। তারা ইচ্ছেমত যেখান সেখান থেকে বালু উত্তোলন করে নওয়াবেকী, কাশিমাড়ী ঘোলা ও কাশিমাড়ী ত্রিমনি এলাকায় বালির স্তুপ করে সেখান থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। এবার বালি মহলে কোন ডাক না থাকায় সম্পুর্ন অবৈধ ভাবে জনপদ সংশ্লিষ্ট নদীগুলো থেকে বালু লুটকরা হচ্ছে। কিন্তু বরাবরই প্রশাসন রয়েছে নিরব রয়েছে ।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলার পাউবো কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন,বর্ষা মৌসুম চলার কারনে বেড়ীবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে,তবে বালু উত্তোলনের কারনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

