
অনলাইন ডেস্ক: ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় (হটস্পট) টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ২১ মে’র মধ্যে পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
দেশে কিছু এলাকায় হাম-রুবেলার (এমআর) প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জরুরিভিত্তিতে আগামীকাল রোববার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। সকাল ৯টায় দেশের ৩০ উপজেলায় একযোগে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন হবে।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। কোনো শিশুকে সুরক্ষার বাইরে না রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় (হটস্পট) টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ২১ মে’র মধ্যে পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা জটিলতা কমাতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মসূচি সফল করতে অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
কোন ৩০ উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া হবে
দেশের মোট ৩০টি হটস্পট উপজেলা বা পৌরসভা চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকার মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা রয়েছে।
রোববার থেকে যেসব উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি চলবে; সেগুলো হলো- রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাটোর সদর এবং যশোর সদর।
নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঝালকাঠি, শরীয়তপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা।

