
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়ির প্রাচীর, রান্নাঘর ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে প্রাচীর ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, আবার বাড়ি থেকে বের হতে বাসিন্দাদের ব্যবহার করতে হচ্ছে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো।সাতক্ষীরা পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে একই দশা বিরাজ করছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, কে.এফ.ডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১৫ কোটি ৩৬ লাখ ২৩ হাজার ৫১২ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮টি সড়ক ও ৪টি ড্রেন নির্মাণের কাজ পায় বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেড (জেভি)।২০২৪ সালের ৫ মে প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ (ওয়ার্ক পারমিট) পায়। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ কিলোমিটার সড়ক ও ১.৮০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কথা রয়েছে।এর মধ্যে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপুকুরপাড় থেকে মানিক ময়রা মোড় এবং কাটিয়া স্কুল থেকে ঝুটিতলা ঈদগাহ পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দেড় থেকে দুই বছর আগে কাজ শুরু হলেও শুকনো মৌসুমে কাজ না করে বর্ষাকালে খননকাজ শুরু করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। ড্রেন খননের কারণে অনেক বাড়ির প্রাচীর, রান্নাঘর ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। পানিভর্তি ড্রেনের কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন তারা।
সরকারপাড়ার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক জামাত আলী বলেন, বাড়ি থেকে ভ্যান বের করতে পারি না। ভ্যান তুলতে তিন-চারজন মানুষের সাহায্য লাগে। একদিন কাজ করতে না পারলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যায়।
কাটিয়া সরকারপাড়ার মার্জিয়া বেগম জানান, দুই মাস আগে ড্রেন খননের পরপরই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তারা বাঁশ দিয়ে বাড়ির প্রধান গেট (পাঁচালী গেট) এবং রান্নাঘরের দেয়ালে ঠেকনা দিয়েছিলেন। কিন্তু খননের পর দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় এবং বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ভরে যাওয়ায় মাটি ধসে পড়ে। এতে বাড়ির প্রাচীর ও রান্নাঘরের দেয়াল ভেঙে পড়ে এবং তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার উপ-প্রকৌশলী (সিভিল-১) সাগর দেবনাথ বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। মাসিক সমন্বয় সভায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী ইকবাল জমাদ্দারকে তলব করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবিদ জমাদ্দার বলেন, কাজে বিলম্বের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ড্রেন নির্মাণের সময় পৌরসভার ৮ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি পানির পাইপ এবং বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় কাজ বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। তবে আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

