
মোহাম্মদ মুজাহিদ:সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জুলাই মাসের মাসিক সাধারণ সমন্বয় সভায় দুই সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে অপমান ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১০ নং আগড়দাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে। সভাকক্ষে উপস্থিত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সামনেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই (সোমবার) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও জরুরি সরকারি কাজে তিনি বাইরে অবস্থান করায় সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মাসিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, রাজস্ব আদায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। সভা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে আলোচনা চলাকালে সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করছিলেন। এ সময় চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন মিলন হঠাৎ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে উচ্চস্বরে বলেন, গত বছর সবাইকে বিভিন্ন ভাতার আওতায় আনতে পারেননি, আবার কেন নতুন করে তালিকা চাইছেন? ফাজলামি করেন নাকি? এমন মন্তব্য করে তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে অপমান করেন বলে অভিযোগ। এ সময় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মুর্শিদ আলম সমাজসেবা কর্মকর্তার পক্ষে প্রতিবাদ জানালে তাকেও উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক ভাষায় কথা বলা হয় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি। সভাকক্ষে এমন আচরণে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও একই চেয়ারম্যান সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইয়াকুব আলী এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে অপমান ও হেয়প্রতিপন্ন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব পালন নিয়ে এক ধরনের চাপ ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন। প্রশাসনিক মহলের একাধিক ব্যক্তি বলেন, উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা হলো সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সমস্যা সমাধান ও জনসেবার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সেখানে কোনো জনপ্রতিনিধি যদি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে অপমান, ভয়ভীতি বা হুমকি দেন, তবে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী নয়, সরকারি কাজে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।এদিকে সভায় উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিলনের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, আমি জরুরি সরকারি কাজে উপজেলার বাইরে থাকায় ওই সভায় উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। যদি সভায় কোনো সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি সভায় সকলকে শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

